পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র
Arpita Mondal
কথাতেই আছে, মাছে-ভাতে বাঙালি। আর দুর্গাপুজো মানে বাঙালির ভুরিভোজ সমার্থক। রকমারি মধ্যাহ্নভোজের মধ্যমণি পদ্মার ইলিশ হলে তো কথাই নেই। কিন্তু এবছর হয়তো সে স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে বাঙালিকে। এ বছর 'পুজোর উপহার' হিসেবে ওপার বাংলা থেকে রুপোলি শস্য রপ্তানি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ভারতে পদ্মার ইলিশ রপ্তানির আবেদন জানানো হলেও , তা নিয়ে এখনও ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, "আমরা ইলিশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমতি পাওয়া যায়নি। উলটে এ দেশের গুজরাট থেকে বাংলাদেশ যে ডিম ভর্তি ইলিশ আমদানি করা হচ্ছিল, তাও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার জলচুক্তি ভেস্তে যায়। ২০১২ সালে ১ আগস্ট সব রকম মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ। তখন থেকেই ওপার বাংলার ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত ছিল এপার বাংলার মানুষ। পরে ২০১৯ সালে দু'দেশের সরকারে কূটনৈতিক স্থিতাবস্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানিতে ছাড়পত্র মেলে। এরপর থেকেই প্রতিবছর বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপুজোর ঠিক আগে কলকাতায় উপহার হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি শুরু করে। গত কয়েক বছর ধরে এটাই হয়ে আসছে। গত বছর প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ এসেছিল এ দেশে। তবে এবার সেই 'উপহার' আনন্দে ভাঁটা পড়তে চলেছে। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সৈয়দ আনোয়ার বলেন, 'আর হাতে সময় নেই। আগামী তাই পুজোয় পদ্মার ইলিশ আসার আশার-আলো প্রায় নেই বললেনই চলে।'
ভারতে পদ্মার ইলিশ রপ্তানিতে ছাড়পত্র না দেওয়ার নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে? ফিশ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারির মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ঘাটতি পূরণে চলতি বছরে প্রায় ৫৫০ মেট্রিক গুজরাতের ইলিশ আমদানি করেছে বাংলাদেশ। নেপথ্যে সেই বিষয়টিও থাকতে পারে।