দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Bangladesh

ভারসাম্যের 'খেলা' তারেকের! ঢাকা মেট্রোর নির্মাণকাজে একসঙ্গে বরাত পেল ভারত, চিন

৫৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকায় তৈরি এই কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলি।
Sucheta Sengupta
07:08 PM Oct 02, 2026 IST
৫৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকায় তৈরি এই কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলি।
ভারত-চিনকে নিয়ে ভারসাম্যের 'খেলা'য় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একদিকে ভারত, আরেকদিকে চিন। উভয়পক্ষকে সন্তুষ্ট রেখে নিখুঁত ভারসাম্যের খেলা খেলতে চাইছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান! সেই লক্ষ্যে তিনি স্বদেশের কাজে দুই প্রতিবেশী দেশকে শামিল করলেন। ঢাকা মেট্রোরেলের দুটি লাইনের আটটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের বরাত পেল ভারত। একইসঙ্গে এই কাজের ঠিকাদারি পেয়েছে চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এসব কাজের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৫৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের ছ'টি প্যাকেজের মূল্য ৫৩ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-৫ (উত্তরা রুট, ১ম সংশোধিত) প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের মূল্য চার হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। লাইন-১'এর ট্র্যাক ওয়ার্কস ও বৈদ্যুতিক সুবিধার কাজ পেয়েছে ভারতের দুই প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়া। এর চুক্তিমূল্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি। সিগন্যাল, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম
স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজ পেয়েছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুবরো লিমিটেড। এর মূল্য ছয় হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। দুটি প্যাকেজে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা, যা মোট মূল্যের প্রায় ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

লাইন-১ এর ট্র্যাক ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থাপনের জন্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে জাপান-ভারতের যৌথ উদ্যোগ এল অ্যান্ড টি-সুমিতোমো কনসোর্টিয়াম (এল অ্যান্ড টি বিজনেস পার্ক)। টেলিকমিউনিকেশন এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানোর জন্য ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুবরো (এল অ্যান্ড টি) ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। একই লাইনের আওতায়, ডিপোর সিভিল ও বিল্ডিং কাজের জন্য চিনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো ৮ করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগ ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জেভি’ ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। মেট্রোরেলের লাইন-১ ও ৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত ৮টি প্রস্তাবের আওতায় নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে জাপান, চিন, ভারত ও বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই কাজে ব্যয় হবে ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ–সংক্রান্ত ৮টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চারটি দেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর বিভিন্ন অংশে ডিপো নির্মাণ, সিভিল ওয়ার্কস, রেললাইন স্থাপন, সিগন্যালিং সিস্টেম ইনস্টল এবং স্টেশন তৈরির কাজ করবে। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির(জাইকা) অর্থায়নে মোট ২ দশমিক ০৪ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে।

অর্থ মন্ত্রক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ মেট্রোরেলের এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড মোট তিনটি প্যাকেজে অংশীদার। এর একটি জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং দুটি চিনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। জাপানি প্রতিষ্ঠানের হাতে সিংহভাগ মোট চুক্তিমূল্যের অর্ধেকের বেশি কাজ পেয়েছে জাপানের প্রতিষ্ঠান। লাইন-১-এর সবচেয়ে বড় প্যাকেজ রামপুরার উত্তর থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত মেইন লাইন ও স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে টোকিও-এমআইএল যৌথ উদ্যোগ। এর চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি টাকার বেশি।

চিনের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগ তিনটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। লাইন-১-এর ডিপোতে পূর্ত ও ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ, মূল্য চার হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি। একই লাইনের ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫.০০৭ কিলোমিটার অংশের কাজ পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ, মূল্য ২৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি। লাইন-৫-এর হেমায়েতপুর স্টেশন থেকে আমিনবাজার ট্রানজিশন এবং নতুন বাজার ট্রানজিশন থেকে ভাটারা
স্টেশন পর্যন্ত এলিভেটেড অংশের মেইন লাইন ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের কাজও তারা পেয়েছে, যার মূল্য দুই হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি। তিন প্যাকেজ মিলিয়ে চিনা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে সংগঠনগুলি পাচ্ছে প্রায় ৯ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার কাজ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
BangladeshChinaDhakaIndiaMetroRailTarique Rahman
Advertisement
Tags :
BangladeshChinaDhakaIndiaMetroRailTarique Rahman

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন