বিপদে 'বন্ধু'র হাত ছাড়েনি ভারত! ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নিয়ে ব্যাখ্যা ত্রিবেদীর
Sucheta Sengupta
বিপদের মাঝে 'বন্ধু'র হাত ছাড়েনি ভারত। বছর দুই আগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক আশ্রয় দেওয়া নিয়ে এমনই ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে চলে আসেন নয়াদিল্লিতে। শনিবার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, তৎকালীন পরিস্থিতিতে তাঁকে আশ্রয় দিয়ে বন্ধুকৃত্য করেছে ভারত। ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর একটি সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি একথা বলেন।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গেলেন, এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘‘শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন।''
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে জড়িয়ে। ফলে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।'' ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও একই কথা বলেন তিনি। ভারতের হাইকমিশনার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তা আইনগত ও সুসংগঠিত।
আরও পড়ুন:
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গেলেন, এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘‘শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন।'' দীনেশ ত্রিবেদীর কথায়, ‘‘সেসময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারতও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনও দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্পও ছিল না। একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল। কারণ কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনও দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না। ভারত যদি বলত যে তাঁকে গ্রহণ করবে না, এমনকী অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।''
সম্প্রতি ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী নিজের মতামত স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন, বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার কারণ নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও বুঝবেন যে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি কখনোই সামনে আসবে না।