দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Bangladesh

রংপুরে হিন্দু পরিবার হত্যার কিনারা, নেশায় বাধা পেয়ে খুন! খেজুর-শসা খায় আততায়ীরা

হত্যাকাণ্ড সামনে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দু'জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Sucheta Sengupta
05:24 PM Aug 23, 2026 IST
হত্যাকাণ্ড সামনে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দু'জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশের রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সপরিবারে খুন! ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার কিনারা করে ফেলল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দু'জনকে গ্রেপ্তার করে প্রকৃত ঘটনা জানা গিয়েছে। রংপুর মহকুমা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ধৃতরা মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, নিহত শিক্ষকের বাড়ির ছাদে উঠে রাতে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা সেবন করছিল তারা। বাধা পেয়ে চক্রবর্তী পরিবারের সকলকে খুন করে। হত্যাকাণ্ডের পর নিজেরা স্নান করে ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর, শসাও খায়। তারপর সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে স্নান করে। পরে ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায়। এরপর সেখানে আরও একবার ইয়াবা সেবন করে তারা। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সম্ভাব্য প্রমাণ মুছে ফেলতে তারা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জলে মোবাইল দুটি চুবিয়ে রাখে।

রংপুরে উদ্ধার একই পরিবারের চার সদস্যের দেহ। ছবি: সংগৃহীত।

রবিবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সবটা জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মহম্মদ আবদুল মাবুদ। ধৃতরা একই এলাকা, মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা। সিদ্ধার্থ স্থানীয় এক গয়নার দোকানে এবং মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদক কারবারির কাছ থেকে নিষিদ্ধ ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসায় সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়। সেখানে ইয়াবা সেবন করছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

সেসময় শব্দ পেয়ে গণপতিবাবু ছাদে যান, বাধা দেন। তাতেই রাগের মাথায় অভিযুক্তরা গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করে। শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে উঠতে গেলে সময় সিঁড়িতে তাঁকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে দড়ি পেঁচিয়ে টেনে দেওয়া হয়। এতে তার চোয়াল এরপর ভেঙে যায়।এরপর গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে স্নান করে। পরে ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায়। এরপর সেখানে আরও একবার ইয়াবা সেবন করে তারা। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সম্ভাব্য প্রমাণ মুছে ফেলতে তারা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জলে মোবাইল দুটি চুবিয়ে রাখে। এছাড়া ওই বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত সোনার গয়না আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা সেরে সেসব নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। মন্দিরের পিছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সোনার গয়না লুকিয়ে রাখে। পুলিশ তা উদ্ধার করেছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
ArrestedBangladeshHinduMurder Case
Advertisement
Tags :
ArrestedBangladeshHinduMurder Case

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন