বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন! 'জেহাদিস্তানে কীভাবে বাঁচবে ওরা?' বিস্ফোরক পোস্ট তসলামির
Kishore Ghosh
ফের বাংলাদেশে হিন্দু খুন! এবারের ঘটনা ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকার। বৃহস্পতিবার স্থানীয় জলশয়ে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় দেহ। প্রাথমিকভাবে পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, নিহত ৫০ বছরের নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। ত্রিশাল উপজেলায় বাড়ি। যৌথ মালিকানায় একটি জুয়েলারি দোকানের ব্যবসায়ী তিনি। এদিকে এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্টে তাঁর প্রশ্ন, "সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জেহাদিস্তানে।"
যদিও নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরকে কারা কী কারণে হত্যা করেছে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনও মামলা হয়নি বলেও জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি ছিল মরদেহ। নিহত ব্যক্তির প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন মেলে। ওই টোকেনের সূত্র ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিরঞ্জনের স্ত্রী সুমিতা রানি সূত্রধর ও ছেলে জয় সূত্রধর মরদেহ শনাক্ত করেন।
আরও পড়ুন:
মৃতের স্ত্রী সুমিতা জানান, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নিরঞ্জন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর স্টেডিয়াম এলাকায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এরপর স্থানীয় জলশয়ে নীল ড্রামের ভিতর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ খুনের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ জানালেও সোশাল মিডিয়ায় বোমা ফাটিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। বরাবর বাংলাদেশের সংখ্যলঘু অধিকার নিয়ে সরব লেখিকা ফেসবুকে লিখেছেন, "যতদূর শুনেছি লোকটি ত্রিশালের বাসিন্দা এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আশ্চর্য , সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? সব হিন্দুর জমি দখল করে নেবে? তাদের টাকা পয়সা লুট করে নেবে? বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে? আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জেহাদিস্তানে। কোনও সুস্থ ও সভ্য মানুষ তো ওই হিংস্র, বর্বর ও অসভ্য মুসলমানের দেশে বাস করতে পারবে না। সম্ভব নয়।"
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনের জের শেখ হাসিনা দেশছাড়া হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকার তলানিতে। পরবর্তীকালে মহম্মদ ইউনুসের আমলেও কট্টরপন্থী জামাতের দাপটে পদ্মাপাড়ের হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলা হয়েছে। ঘটেছে খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনা। এমনকী হিন্দু বাড়ি, দোকানপাট, সনাতনি মন্দিরেও হামলা চালিয়েছে মৌলবাদীরা। এই বিষয়ে মুখ খুলেছে দিল্লি। পরবর্তীকালে ভোটে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করলেও বাংলাদেশে সংখ্যলঘু অধিকার যে প্রশ্নের মুখে নিরঞ্জন চন্ত্র সূত্রধরের হত্যাকাণ্ডে তা ফের জলের স্পষ্ট হয়ে গেল।