হাসিনা কাঁটার মধ্যেও বাণিজ্য সম্পর্কে শান, ভারত-বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্স গড়তে আলোচনা!
Kishore Ghosh
হাসিনা কাঁটায় ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত। দিল্লির আমন্ত্রণ সত্ত্বেও ব্রিকসে আসননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যদিও জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎসংকটে বিধ্বস্ত পদ্মাপাড়। এই অবস্থায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের (Trade) পথ খোলা রাখতে চায় বাংলাদেশ। এই বিষয়ে ভারতও নিমরাজি নয়। সেই লক্ষ্যে এবার একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে বলে খবর।
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বাংলাদেশি বণিকসভার প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস। বৈঠকে উভয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিই যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছেন। পরে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, এই টাস্ক ফোর্স গঠনের জন্য তাঁর দপ্তর দু’দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকে আরও সহজ করতে এই ‘বিজনেস-টু-বিজনেস’ টাস্ক ফোর্স গড়া দরকার বলেই মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
দিল্লি ও ঢাকার বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে যৌথ টাস্ক ফোর্স, এমনটা মনে করেন বাংলাদেশের বণিক সভার প্রতিনিধিও ফজলুল হকও। ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে পদ্মাপাড়ের প্রতিনিধির আলোচনায় শুল্ক এবং অন্য বাণিজ্য-জটিলতা প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। উল্লেখ্য, ঢাকা বণিকসভার নেতা ও কর্মকর্তারা এর আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে অ-শুল্ক বাধার সম্মুখীন হন। এর মধ্যে রয়েছে সামগ্রীর গুণমান পরীক্ষা ও শংসাপত্রের কড়াকড়ি, কাস্টমস পদ্ধতি, বন্দরের বিধিনিষেধ, লাইসেন্সিং নিয়ম এবং উচ্চ লজিস্টিক খরচ। এমন বিবিধ সমস্যা মেটাতে টাস্ক ফোর্স গঠন জরুরি বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গ, হাসিনা বিদায়ের পর ভারত বিদ্বেষ চরমে পৌঁছেছিল বাংলাদেশে। জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ায় কড়াকড়ি শুরু করে দিল্লি। ওই সময়ে ভারতের আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে স্থলবন্দর দিয়ে পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য পণ্যের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছিল। ঢাকায় নির্বাচিত সরকার আসার পর সম্পর্কের সেই শীতলতা কেটেছে। যদিও হাসিনা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যে। বাণিজ্য সম্পর্ক কি তাতে মলম দিতে পারবে!