জোড়া ছোবলে বাংলাদেশে ‘মড়ক’, হামের ‘মৃত্যুবাণে’ নিহত ১০৭৬ শিশু, ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ২০০!
Subhodeep Mullick
হাম এবং ডেঙ্গুর জোড়া ব্যাধিতে বাংলাদেশে (Bangladesh) যেন মড়ক! পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলি। মহম্মদ ইউনূসের ১৭ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে উপেক্ষিত ছিল হামের টিকা আমদানি। অভিযোগ, তাঁর সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আর্থিকভাবে লাভবান হতে ইউনিসেফের বদলে অজানা প্রতিষ্ঠান থেকে হামের টিকা আমদানি করে। এই টিকা হাম প্রতিরোধে সুফল দেয়নি। আবার দেশের সিংহভাগ শিশুকে হামের প্রতিরোধী টিকা দেওয়া যায়নি। তার ফলস্বরূপ শিশুরা এখন হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। গত ৬ মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ৭৬ জন। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০০ জনের।
বুধবার সরকারের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি বছর এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। চলতি মাসের শুরুতে স্বাস্থ্য দপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। জানিয়েছিল, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাংলাদেশে লাফিয়ে বাড়ছে হাম আক্রান্তের সংখ্যাও। গত ৬ মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ৭৬ জন শিশু। এর জেরে গোটা দেশে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি
চাপের মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন:
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গোটা দেশের মধ্যে রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।বাংলাদেশে হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৩। এর মধ্যে প্রাথমিক থেকে
উন্নত পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ৭১ হাজার ৯৬২টি
এবং নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ৯২ হাজার ৬০১টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা আরও বেশি। যদিও হাসপাতালগুলিতে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।