হাসিনার জন্মদিন পালন ছাত্রলিগের, পুলিশ হানা দিতেই কেক ফেলে পালালেন কর্মীরা!
Sucheta Sengupta
মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়েই ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে বসে তাঁর এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত দলের নেতা-কর্মীরা। পিছিয়ে নেই শাখা সংগঠনগুলিও। ইউনুসের আমলের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বর্তমান তারেক রহমান সরকারের আমলে গোপনে একাধিক কর্মসূচি করে চলেছেন নেতা-কর্মীরা। পুলিশও কড়া নজরদারি চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার, শেখ হাসিনার জন্মদিনের প্রাক্কালে শরিয়তপুরে ছাত্রলিগের কয়েকজন মিলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের তাড়া খেয়ে তাঁরা কেক-মোটরসাইকেল ফেলেই পালিয়ে যান তাঁরা।
এর আগে শনিবার শেখ হাসিনার ঢাকার ধানমন্ডির বাড়ির কাছে ২৭ নম্বর সড়ক এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিলে নেমেছিলেন। সেই মিছিলে অন্তত চারটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন। সেই উপলক্ষে পদ্মাপাড়ের দক্ষিণের জেলা শরিয়তপুরের জাজিরায় কেক কেটে নেত্রীর জন্মদিন পালন করছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলিগের নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে একটি কেক ও পাঁচটি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গরম বাজার এলাকার জোড়াব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা। মোটরবাইকগুলোর মালিক বা ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ‘‘কেক কাটার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।’’ একই জেলার জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের চর খাগুটিয়া এলাকায় ঢাকা-শরিয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলিগের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই মিছিলে বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এছাড়া আওয়ামি লিগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরিয়তপুর শহরের প্রধান সড়কে ঝটিকা মিছিল করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলিগ ও যুবলিগের নেতাকর্মীরা। মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অংশ নেওয়া এই মিছিলে জড়িত সন্দেহে এক তরুণকে আটক করে পুলিশ।
গত শুক্রবার দুপুরে শরিয়তপুর পৌরসভা এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় পুলিশ বক্সের দিকে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক থাকার মধ্যেই হঠাৎ একদল নেতা-কর্মী ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘চলছে লড়াই, চলবে’ এবং ‘শেখ হাসিনা লড়বে’ বলে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলিগ নেতা সাইফুল মোল্লা ও ছাত্রলিগ কর্মী সাজিদ মোল্লাকে সামনের সারিতে থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে। এ সময় সাজিদ মোল্লার মাথায় প্রতীকী কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল। এভাবেই আওয়ামি লিগ বা শাখা সংগঠনের সদস্যরা কোনও কর্মসূচিতে নামলেই পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।