তিনদিনের অপেক্ষাই সার। বরফ গলল না বিজিবির ( বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা নিজের দেশের নাগরিকদেরই সীমান্তে প্রবেশের অধিকার দিল না বাংলাদেশের রক্ষী বাহিনী। অগত্যা মানবিক পদক্ষেপ নিল বিএসএফ। সোমবার জলপাইগুড়ি নগর বেরুবাড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থেকে থেকে কার্যত ক্লান্ত ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করল বিএসএফ। জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানার পুলিশের হাতে তুলে দিলেন তারা। বিএসএফের এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নগর বেরুবাড়ির জয়পুর সীমান্ত লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা।
আপাতত এই ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে জলপাইগুড়ির হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে জানা গিয়েছে। সীমান্তপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, গত তিনদিন ধরে দূর থেকে হলেও প্রতিবেশী দেশের এই মানুষগুলোকে প্রত্যক্ষ করছিলেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, এই ১০ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন যশোরের, চারজন চট্টগ্রাম, একজন খুলনা, একজন সাতক্ষিরা ও আরেকজন কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। একসময় অবৈধভাবে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। বৈধ কোনও কাগজপত্রও নেই তাদের কাছে। আটক এই বাংলাদেশিদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। দেশে ফেরার জন্য নগর বেরুবাড়ি সীমান্তে এসে জড়োও হয়েছিলেন তাঁরা। রাতের অন্ধকারে ঢুকেও পড়েছিলেন নিজের দেশের সীমান্তে।
বিজিবি তাড়া করে দেশ থেকে বার করে জিরো পয়েন্টে নিয়ে আসে তাঁদের। ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মাঝের ফাঁকা অংশ জিরো পয়েন্টে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনদিন ধরে খোলা আকাশের নিচেই তাঁরা ছিলেন।
কিন্তু দেখে ফেলে বিজিবি। তাড়া করে দেশ থেকে বার করে জিরো পয়েন্টে নিয়ে আসা হয় তাঁদের। ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মাঝের ফাঁকা অংশ জিরো পয়েন্টে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনদিন ধরে খোলা আকাশের নিচেই তাঁরা ছিলেন। এপারের বাসিন্দাদের দাবি, বিজিবির আধিকারিকদের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করে বাংলাদেশি এই নাগরিকদের তাঁদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। কিন্তু কোনও কথাই শুনতে চায় না বিজিবি। শেষপর্যন্ত মানবিক মুখ দেখাল বিএসএফ। ওই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আপাতত তাঁদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে।
