মৃত্যুকামনা করেছিলেন হুমায়ুন, ভোটপ্রচারে রেজিনগরের 'গণদেবতা'র কাছে বিচার চাইলেন শুভেন্দু
Arpita Mondal
বঙ্গ রাজনীতিতে অমানবিকতার চরম নিদর্শন দেখিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আর বিরোধিতা নয়, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মৃত্যুকামনা করে বসেন তিনি! এই প্রসঙ্গে এদিন রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে হুমায়ুন কবীরকে অলআউট বিঁধলেন শুভেন্দু। হুমায়ুন কবীরের 'মৃত্যকামনা'র কথা স্মরণ করিয়ে জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, "এই লোককে ভোট দেবেন!" তাঁর কথায়, "রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয় এবং হবেও, বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা -সমালোচনা হবে, একজন জিতবে-অন্যজন হারবে। আর এখানে হুমায়ুন সাহেব বলছেন আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি অজিত পাওয়ারের মতো মুখ্যমন্ত্রী তাড়াতাড়ি উপরওয়ালার কাছে চলে যান! শত্রু হলেও মুখে এই ভাষা আনি না।"
হুমায়ুনকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, " বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার।" হুমায়ুনের উদ্দেশে শুভেন্দুর বক্তব্য, "আপনি আপনার রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে ছুরি মেরেছেন। রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বলেছিল, এমএলএ চাইছেন না মন্ত্রী চাইছেন? সেদিন রেজনিগরের লোক আপনাকে হারিয়েছিল। আপনাকে আশ্রয় দিয়েছিল মুকুল রায়। আপনি বিজেপির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। শেষ আশ্রয়স্থল ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আপনিও বিভাজনের রাজনীতি করে ধর্মীয় স্থানকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছেন।"
প্রসঙ্গত, রবিবার ভরা সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুনের বলেছিলেন, ‘‘যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব। তিনি যেন তাড়াতাড়ি উপরে যাওয়ার টিকিট কেটে দেন। অহংকারের পতন হবে, পৃথিবী থেকে যেতে হবে।” এদিন হুমায়ুনকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, " বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার।" হুমায়ুনের উদ্দেশে শুভেন্দুর বক্তব্য, "আপনার লোকেরাই আপনার কাছ থেকে সরে গেছে। কারণ আপনি আপনার রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে ছুরি মেরেছেন। আপনি যখন মন্ত্রী ছিলেন, এখানে দাঁড়িয়েছিলেন, সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বলেছিল, এমএলএ চাইছেন না মন্ত্রী চাইছেন? সেদিন রেজনিগরের লোক আপনাকে হারিয়েছিল। আপনাকে আশ্রয় দিয়েছিল মুকুল রায়। আপনি বিজেপির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। শেষ আশ্রয়স্থল ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আপনিও বিভাজনের রাজনীতি করে ধর্মীয় স্থানকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছেন।"
আরও পড়ুন:
নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে খোঁচা দিয়ে জনতারা উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, "নওদা থেকে বিধানসভায় গেছেন হুমায়ুন সাহেব। এই ৫ মাসে নওদার লোককে কী দিয়েছেন? একটা ইটই গাঁথতে পারেননি। আগামী ৫৫ মাসেও পারবেন না।" শুধু হুমায়ুন নয়, এদিন রেজিনগরের প্রচারমঞ্চ থেকে তৃণমূলকেও কড়া ভাষায় তুলোধোনা করেন তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট করে বলেন, "৫ মে মধ্যরাতে আমি বলেছিলাম তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। ১৫০ দিনে জোড়াফুলও নেই, তৃণমূলও নেই। কে আসল, কে নকল। মমতা এআইটিসি তো গরুর গাড়ির হেডলাইট, আরেকটা ডেমোক্রেটিক টিএমসি। রেজিনগর কেন, গোটা বাংলায় এদের নাম পাবেন না। যেমন কর্ম তেমন ফল তো পেতেই হবে।"