সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ৪২ ফুটের দুর্গাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা। পুজো প্রাঙ্গণে নো-এন্ট্রি বোর্ড, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার জন্য উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুধু কী তাই! প্রতিদিনই পুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে হাজির হচ্ছেন পুলিশকর্তারা।
[ এবার পুজোয় মায়ের চক্ষুদানে রূপান্তরকামীর ছোঁয়া]
বনেদি বাড়ি পুজোর ব্যাপারটা আলাদা। কিন্তু, বারোয়ারি পুজো কিংবা ক্লাবের পুজো তো আর শুধু মাতৃ আরাধনা নয়, থিমের চমকও বটে।দুর্গাপুরের শহরের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর আদিবেদী কমিটির পুজোর প্রধান আকর্ষণ প্রতিমা। ৪২ ফুটের প্রতিমা বানিয়ে তাক লাগিয়ে চাইছেন পুজো উদ্যোক্তারা। গত চার মাস ধরে সিমেন্টের বেদির উপর চলছে প্রতিমার তৈরির কাজ। শ্যামপুর আদিবেদী কমিটির দুর্গাপুজোর প্রতিমা তৈরি করছেন কৃষ্ণনগর ও বহরমপুরের শিল্পীরা। নয় লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোর প্রতিমা তৈরিতেই তিন লক্ষ টাকা খরচ করছেন উদ্যোক্তারা। শ্যামপুর আদিবেদী দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক চিরঞ্জিত দাসের বক্তব্য, ‘দুর্গাপুরের তারকা পুজোগুলির তালিকায় ঠাঁই পাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি আমরা৷ উতরে যাব বলেই আশা রাখি৷’ পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন। সেদিন এলাকার তিনশোজন দুঃস্থ মানুষকে নতুন পোশাক দেবেন উদ্যোক্তারা। পুজোর চারদিন পংক্তিভোজেরও আয়োজন করেছে শ্যামপুর আদিবেদী দুর্গাপুজো কমিটি। এদিকে ঘুম উড়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশানারেটে কর্তাদের।
মঙ্গলবার দুর্গাপুর শহরের সজনী হলে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ। বৈঠক শেষে শ্যামপুর আদিবেদী দুর্গাপুজোর কমিটি প্রস্তুত খতিয়ে দেখতে যান ডিসি, এসিপি, সার্কেল ইনস্পেক্টর-সহ আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ কর্তারা। প্রতিমার উচ্চতা দেখে চক্ষুচড়ক গাছ তাঁদের! পুজোর চারদিন কেমন ভিড় হবে, তা বুঝে গিয়েছেন পুলিশকর্তারা। শুধুমাত্র নো-এ্রন্ট্রি বোর্ড কিংবা পার্কিংয়ের জায়গাই নয়, পুজো প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। দুর্গাপুরের শ্যামপুর আদিবেদী দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক চিরঞ্জিত দাস জানিয়েছেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ যা নির্দেশ, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
ছবি: উদয়ন গুহরায়
[ এই বাড়িতে শিবের কোলে বসেই পুজিত হন দ্বিভুজা দুর্গা]
The post দুর্গাপুরে ৪২ ফুটের প্রতিমা! নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘুম উড়েছে পুলিশের appeared first on Sangbad Pratidin.
