ধানতলা ধর্ষণে ১৬ বছর জেল, বাড়ি ফিরে ভাইঝিকে 'ধর্ষণ', এবার আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ আদালতের
Tiyasha Sarkar
ধানতলা ধর্ষণ-কাণ্ডে ১৬ বছর জেলে কাটিয়ে এবার ভাইঝিকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত সেই কমলেশ বালা! এবার বিচারক এমন সাজা দিলেন যাতে কোনওভাবেই আর জেলের বাইরে না কাটাতে পারে সেই অভিযুক্ত কমলেশ বালা। আমৃত্যু জেলেই কাটাতে হবে দোষীকে।
২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নদিয়ার ধানতলার আইশমালিতে ধানখেতের ধারে বিয়েবাড়ি ফেরত পরপর দুটি বাস থামিয়ে মহিলাদের ধর্ষণ-শ্লীলতাহানি-লুঠপাটের ঘটনা ঘটে। আধ কিলোমিটার দূরে পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও নির্বিচারে ঘটেছিল ন্যক্কারজনক ঘটনা। এমনকী, পুলিশও ঘটনাটি চাপা দিতে তৎপর হয় বলে অভিযোগ। তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। ১৬ বছর জেল খাটে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা কমলেশ। কিন্তু সংশোধনাগারে বিন্দুমাত্র সংশোধিত হয়নি তার চরিত্র। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাড়ি ফিরতেই খুড়তুতো দাদার ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সোমবার সেই মামলাতেই কমলেশকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক রাজীব সাহা।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, কমলেশ সম্পর্কে নাবালিকার কাকা। ঘটনার দিন নাবালিকার মা তাকে বাড়িতে একা রেখে পুকুরে জামাকাপড় কাচতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় কমলেশ নাবালিকাকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। নাবালিকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ধর্ষণের অভিযোগে কমলেশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নাবালিকার মা জানিয়েছিলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর ১৫ দিন মেয়ে বনগাঁ হাসপাতালের ভর্তি ছিল। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তার মানসিক সমস্যা দেখা যায়। এই মামলার সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, "ঘটনার এক বছরের মধ্যেই সাজানো ঘোষণা করলেন বিচারক। মোট ১৯ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। দোষী আর বাকি জীবন জেলের বাইরে কাটাতে পারবে না।" তবে কমলেশের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়, তাঁরা উচ্চ আদালতে আবেদন জানাবেন।