হিমালয়ে হিন্দুকুশ অঞ্চলে বিপদের ঘনঘটা, ২৩০টি হিমবাহ হ্রদই বিপজ্জনক!
Kousik Sinha
বাড়ছে উত্তাপ। গলছে হিমবাহ, 'পারমাফ্রস্ট' অর্থাৎ জমে থাকা ভূ-স্তর। সেটাই ঘনীয়েছে বিপদ। হিমালয়ে হিন্দুকুশ অঞ্চলে প্রায় ২৩০টি হিমবাহ হ্রদ বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। এরমধ্যে ৫৫টি হ্রদে বিপর্যয় ঘটলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষকমহল। কারণ, এখানে সম্ভাব্য হড়পা বানের গতিপথে সেতু, ভবন ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো পরিকাঠামো রয়েছে। 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট'-এর অনুসন্ধানে ওই তথ্য সামনে এসেছে। এই সতর্কবার্তা শুধুমাত্র নেপালের জন্য নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চিন, ভারত, মায়ানমার ও পাকিস্তান সমান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট' চলতি বছরের বর্ষা মরশুমের আগেই সতর্ক করেছিল, হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলটি আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদ ভেঙে হড়পা বানের মতো ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
কার্যত নেপালে ২৬ আগস্টের ভয়াবহ হড়পা বান ক্রমশ বেড়ে চলা হিমবাহ ও ভূমিধসের দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গবেষকদের মতে, বিশাল আকারের পাথর ও বরফ ধসের জেরে এই দুর্যোগ প্রমাণ করেছে, উঁচু পাহাড়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিপদগুলো কেমন করে বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে ব্যার্থ করে দিতে পারে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়ন, হিমবাহ গলে যাওয়া, পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ জমে থাকা মাটির স্তরের ক্ষয় এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
আরও পড়ুন:
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই বিপদ শুধু নেপালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হিমালয়ের হিন্দুকুশ অঞ্চলটি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চিন, ভারত, মায়ানমার ও পাকিস্তান জুড়ে বিস্তৃত। এখানকার হিমবাহ, নদী ও পর্বতমালা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় হিন্দুকুশ, কারাকোরাম ও হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ২৩০টি হিমবাহ বিপজ্জনক চিহ্নিত করা হয়। এরমধ্যে ৫৫টি হ্রদে বিপর্যয় ঘটলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হবে। কারণ, এখানে সম্ভাব্য হড়পা বানের গতিপথে সেতু, ভবন ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো পরিকাঠামো রয়েছে। ওই এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা হিমবাহ গলে হ্রদের আয়তন বৃদ্ধি, পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ জমাট মাটির স্তর গলে যাওয়া এবং পাহাড়ের ঢাল ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার মতো বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছেন। এসবই হিমবাহ হ্রদ ভেঙে হড়পা বান, ভূমিধস, পাথর ও বরফের ধস এবং ধারাবাহিক বন্যার মতো ঘটনার কারণ হতে পারে।
'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট' চলতি বছরের বর্ষা মরশুমের আগেই সতর্ক করেছিল, হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলটি আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদ ভেঙে হড়পা বানের মতো ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। গবেষকদের দাবি, আগস্ট মাসে নেপালে হড়পা বানের বিপর্যয় দেখিয়ে দিয়েছে এই ধরনের বিপদ কত দ্রুত ঘটতে পারে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, পাহাড়ে ভূমিধসের পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বন্যার রূপ নিতে পারে। আরও বিপদের নদী ও হিমবাহ কোনও একটি দেশের সীমানা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ একটি দেশে বিপজ্জনক হ্রদ বা পাহাড় ধসের ঘটনা অন্য দেশের নিচের অঞ্চলে জনবসতি ও পরিকাঠামোর ধ্বংস করতে পারে। ওই কারণে গবেষকরা হিমালয় সংলগ্ন দেশগুলোর মধ্যে উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ প্রস্তুতির উপরে গুরুত্ব দিয়েছেন।