দিতেন জাল ডিসিআর তৈরির সবুজ সংকেত! টুলু মণ্ডলের মামলায় পুলিশের জালে প্রাক্তন বিএলআরও
Kousik Sinha
পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল সংক্রান্ত মামলায় (Tulu Mondal Case) এবার পুলিশের জালে প্রাক্তন বিএলআরও। ধৃত এই আধিকারিকের নাম সব্যসাচী দত্ত। তিনি মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলআরও হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যদিও ঝাড়গ্রামের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড পদে কর্মরত রয়েছেন ধৃত সব্যসাচী। শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিউড়ি থানায় ডেকে পাঠানো হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে খবর। এমনকী একাধিক প্রশ্নের উত্তর ধৃত ওই সরকারি আধিকারিক এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বলেও খবর। এরপর শনিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ, রবিবার ধৃতকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই দুই কর্মী টুলু মণ্ডলের কর্মীদের হাতে জাল ডিসিআর তৈরির প্রয়োজনীয় নথি তুলে দিতেন। আর সেই কাজে সবুজ সংকেত আসত সব্যসাচী মণ্ডলের কাছ থেকেই। তাঁর নির্দেশেই এই কাজ চলত বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
পুলিশ ও আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলের মামলায় এর আগে ভূমি দপ্তরের দুই কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা ও প্রবীর কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত দুজনকে জেরা করেই মূলত সব্যসাচীর খোঁজ পান তদন্তকারীরা। এমনকী টুলুর বিশাল ব্যবসার পিছনে তাঁর বড় একটা ভূমিকা যে আছে, সেই সংক্রান্তও তথ্যও উঠে আসে তদন্তে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই দুই কর্মী টুলু মণ্ডলের কর্মীদের হাতে জাল ডিসিআর তৈরির প্রয়োজনীয় নথি তুলে দিতেন। আর সেই কাজে সবুজ সংকেত আসত সব্যসাচী মণ্ডলের কাছ থেকেই। তাঁর নির্দেশেই এই কাজ চলত বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
আরও পড়ুন:
যদিও সব্যসাচী মণ্ডলের আইনজীবীদের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মহম্মদবাজার ব্লকে বিএলআরও পদে থাকার সময় নকল ডিসিআরের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সব্যসাচী মণ্ডলই। তাঁদের প্রশ্ন, যে ব্যক্তি এই মামলায় অন্যতম প্রধান সাক্ষী হতে পারতেন, তাঁকেই পুলিশ কেন অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করল? টুলু মণ্ডল মামলায় এই গ্রেপ্তারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন আদালতে বারবার সরকারি আইনজীবীর বক্তব্যে এই মামলায় বড় মাথাদের যোগসাজশের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। একাধিক সরকারি কর্মীর গ্রেপ্তারের পর এবার একজন সরকারি আধিকারিক পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। আগামী দিনে এই মামলায় আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।