প্রত্যেকদিন বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। তীব্র গরম তার ওপরে তাপপ্রবাহ। দেখা নেই বৃষ্টির। আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান মতো আরও বেশ কয়েকদিন বজায় থাকবে এই অবস্থা। প্রবল গরমে হাঁসফাঁস প্রাণীকুলের। বিশেষ করে সুন্দরবনের বাঘেদের অবস্থা ঠিক রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বনদপ্তরের তরফ থেকে। সুন্দরবনের ঝড়খালিতে অবস্থিত যে ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে সেখানে থাকা অতিথিদের জন্য আপাতত নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ ব্যবস্থা। আনা হয়েছে তাদের প্রতিদিনকার রুটিনের খাওয়া-দাওয়া ও পরিচর্চার বদল। এই গরমে তারা যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে তার জন্য তাদের শরীর পরিচর্চার পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পরিচর্যায় ত্রুটি রাখছে না জেলা বনদপ্তর। সেখানে দুটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কয়েক মাসের ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছে দু'জনের। তাই যে দু'জন এখন সেখানে উপস্থিত তারা যাতে কোনওভাবে অসুস্থ না হয়ে পড়ে তার জন্য পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুবেলা পাইপের মাধ্যমে জল স্প্রে করে ছিটিয়ে ছিটিয়ে স্নান করানো হচ্ছে। ভালো করে ভিজিয়ে দেওয়া হচ্ছে শরীর। তাছাড়া ভিটামিন সি ট্যাবলেট এবং ওয়ারেস পাউডার জলেগুলে খাওয়ানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দিনরাত ধরে বাঘদের খাঁচার সামনে বিশাল আকার স্ট্যান্ড ফ্যান দেওয়া হয়েছে। যাতে হাওয়া বাতাসের কোন সমস্যা না হয়। বাঘদের থাকার ইনক্লোজারের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে বাথ টাব। তাছাড়া বাঘ দের স্নানের জন্য প্রকৃতিগতভাবে তৈরি পুকুর তো রয়েছে। ইনক্লোজারের মধ্যে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাঁচার মধ্যে বড় বড় পাত্রে জল রাখা হয়েছে। যাতে নিজেদের প্রয়োজনমতো জল খেতে পারে বাঘেরা।
বাঘদের শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি খাবারের মেনুতে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। শরীরের ওজন বিবেচনা করেই তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে খাবার। এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন বিভাগের বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, বাঘের অতিরিক্ত জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ও আর এস মেশানো জল খাওয়ানো হচ্ছে। শুধু তাই নয় তাদের জন্য বড় বড় ফ্যানেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপাতত দুটি বাঘ ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে আছে। তাদের জন্যই এই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
