পাখিপ্রেমীদের জন্য সুখবর! শামুকখোল, গ্লসি আইবিসদের বংশবৃদ্ধি কুলিকে
Tiyasha Sarkar
রায়গঞ্জে কুলিক পক্ষীনিবাসে (Raiganj Wildlife Sanctuary) সুখবর। শামুকখোল, গ্লসি আইবিস, নাইট হেরনদের পরিবার ক্রমশ বাড়ছে উত্তরবঙ্গের এই অভয় অরণ্যে। এবছরের শুমারি রিপোর্ট তাই বলছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯২৫৪টি পরিযায়ী পাখি বেড়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পক্ষীনিবাস কুলিকে।
প্রতিবারই বর্ষার বিদায়ের মুখে দেশ বিদেশ থেকে পরিযায়ী পাখিরা এই পক্ষীনিবাসে এসে হাজির হয়। কুলিকের জলাভূমি ও সবুজ পরিবেশ পরিযায়ী পাখিদের কাছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের দিকে কুলিকে পাখি শুমারির কাজ করে রাজ্য বনদপ্তর। এবার ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দু'দিন ধরে পাখি সুমারি চলে। সম্প্রতি সুমারির রিপোর্ট বনদপ্তরের হাতে এসেছে। সূত্রের খবর, কুলিকে পাখির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৯৩১৪। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৫৮টি।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালে পক্ষী শুমারিতে শামুকখোলের সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৫৫৮। সেখানে এবার বেড়ে হয়েছে ৭৩ হাজার ৫২৫। নাইট হেরন পাওয়া গিয়েছে ৪ হাজার ৮১২। আগে ছিল ৩ হাজার ৫৫৭। গতবারে সাদা বক ছিল ১৫ হাজার ৪৮৬ মত। এবার বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৪৭১। কুলিকে গ্লসি আইবিসের বৃদ্ধি হয়েছে রেকর্ড হারে। গত বছর এখানে গ্লসি আইবিস ছিল কমবেশি ১ হাজার ৫০৬টি। এবার সেখানে ৬ হাজার ৫৪৬টি গ্লসি আইবিসের উপস্থিতি মিলিছে। তবে এবার পানকৌড়ির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত বছর সুমারিতে পানকৌড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ৯৫১। সেখানে এবার ৭ হাজার ৯৫৮টি পানকৌড়ির দেখা মিলেছে।
রায়গঞ্জের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, "কুলিকের পরিবেশ পরিযায়ী পাখিদের এখানে টেনে নিয়ে আসে। নতুন নতুন প্রজাতির পাখি এখানে আসছে। গত তিন বছর ধরে গ্লসি আইবিস আসছে। এবার তাদের সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। এই বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে বনদপ্তরের কাছে একটা খুশির খবর।" রাজ্য পর্যটন দপ্তরও কুলিকের পক্ষীনিবাসকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ছোট্ট এই অভয় অরণ্য পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এখানে বছরে এক লক্ষের মত পর্যটক আসেন।