সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে জলের স্রোতে ভাসলেন মা, ঝাড়গ্রামে জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
Kousik Sinha
ঝাড়গ্রামের (Jhargram) অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি বেলপাহাড়ির ঘাঘরা জলপ্রপাত। আর তা দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জলের স্রোতে ভেসে গেলেন মা। বাবা জলে ঝাপ দিয়ে সন্তানকে বাঁচাতে পারলেও স্ত্রীকে হারালেন।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন বারুইপুরের এক পরিবার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার ঝাড়গ্রাম ঘুরতে যান প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দল। কলকাতা থেকে তাঁরা যান। ওঠেন ঝাড়গ্রামের একাধিক হোটেলে। জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার প্রথমে বেলপাহাড়ির ঘাঘরা জল প্রপাত দেখতে যান। বারেটা নাগাদ সেখানে পৌঁছান পর্যটকরা। ওই দলেই ছিলেন বারুইপুরের বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রাজদীপ দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতি দত্ত। তাঁদেরই সাত বছরের সন্তান প্রিয়ঙ্কন দত্ত। বাড়ি বারুইপুর এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, এদিন বেলা বারোটা নাগাদ জলপ্রপাতের কাছে ছবি তুলে এই দম্পতি সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই ফিরছিলেন। সেই সময় হঠাৎই প্রিয়ঙ্কনের পা ফসকে যায় এবং সে জলে পড়ে যায়। তাই দেখে মা প্রীতি জলে ঝাঁপ দেন। আর তাদের বাঁচাতে রাজদীপও জলে ঝাঁপ দেন। রাজদীপ সাঁতার জানার ফলে ছেলেকে উদ্ধার করে পারে তুলতে পারলেও স্ত্রীকে পারেন নি। প্রীতি তীব্র জলের স্রোতে ভেসে যান।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় মানুষজনই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের টিমের সদস্যরা। পৌঁছান পুলিশ সুপার-সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, এখনও প্রীতি দত্তের দেহ উদ্ধার হয়নি। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। তবে অন্ধকার নেমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ কিছুটা সময় লাগছে বলে জানা গিয়েছে।