২০১৭ সালে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) নেতৃত্বে হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ৬ বছরের এক শিশুর। আট বছর পর মেয়ের খুনের প্রতিশোধ চান মৃত শিশুর বাবা খুরশিদ খান। জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারির পর ডায়মন্ড হারবার আদালতে দাঁড়িয়ে স্বঘোষিত 'পুষ্পা'র ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
জানা গিয়েছে, ফলতার শ্রীরামপুরে জাহাঙ্গির খানের পাড়াতেই থাকতেন খুরশিদ খান। ২০১৭ সালে একটি পুকুর নিয়ে জাহাঙ্গিরের সঙ্গে তাঁর বিবাদ শুরু হয়। পুকুরের মালিক খুরশিদকে ওই পুকুরটি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জাহাঙ্গির পুকুরের মালিকানা নিজের হাতে রাখতে চান। এই নিয়ে খুরশিদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুরশিদের বাড়িতে হামলা চালায় জাহাঙ্গিরের দলবল। জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়িতে ইট, পাথর ছোড়া হয়। এই হামলায় মাথায় ইটের আঘাত লেখে মৃত্যু হয় খুরশিদের মেয়ে শামিরা খাতুনের। কিন্তু সেই সময় পুলিশ কোনও এফআইআর নিতে চায়নি। উলটে খুরশিদের বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র আইন ও গাঁজা রাখার মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ হেফাজতে বেধড়ক মারধরও করা হয় তাঁকে।
জাহাঙ্গির গ্রেপ্তার হলেও তাঁর দলবলের বেশ কয়েকজন এখনও জেলের বাইরে রয়েছেন। ২০১৭ সালের হামলায় জড়িত সব অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি চান মৃত শিশুর বাবা। সেই ঘটনার পর থেকেই ভয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যান তিনি। বর্তমানে তিনি ডায়মন্ড হারবারের সরিষা এলাকায় থাকেন। আজ, মঙ্গলবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। সেই বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন খুরশিদও। তিনি জানান, জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারিতে মেয়ের মৃত্যুর শোক কিছুটা কমলেও তাঁর ফাঁসি হলে পুরোপুরি শান্তি পাবেন তিনি।
