রাতে অশান্তি, সকালে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ড! বায়রনের বাড়িতে আগুনে ঘনীভূত রহস্য
Sucheta Sengupta
তৃণমূলের তুমুল ভরাডুবির সময়ও তিনি নিজের দুর্গ আগলে রাখতে পেরেছিলেন। সেই জয়ের উদযাপন করেছিলেন তিনদিন ধরে। সাগরদিঘির দু'বারের বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের (Bayron Biswas) সেই সেলিব্রেশন বেশ ভাইরাল হয়েছিল, সমালোচনাও কম সহ্য করতে হয়নি তাঁকে। সেসবকে অবশ্য 'কুছ পরোয়া নহি' বায়রনের। মমতা শিবির থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ভিড়ে এখন তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। শনিবার সকালে সেই বায়রনই প্রাণঘাতী বিপদের মুখে। তাঁর বাড়িতে আগুন লেগে প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হলেন বিধায়ক। আপাতত মুর্শিদাবাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বায়রন বিশ্বাস। এই ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা নিয়ে প্রাথমিক অনুমান করেছেন তদন্তকারীরা।
ধুলিয়ানে বায়রনের যে বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেই বাড়িতে রয়েছে বিড়ি কারখানা। বিশাল একটা অংশে এই কারখানা এবং গুদাম। তাতে প্রচুর কাঁচামাল মজুত থাকে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়িতে বায়রনের পরিবার ছাড়াও থাকেন তাঁর দাদা ও বোন। শুক্রবার রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বায়রন। পুলিশের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অবস্থায় দাদা-বোনের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁদের হুমকি দেন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাঁরা বায়রনের ওই ভয়াবহ রূপ দেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্যত্র চলে যান।
আরও পড়ুন:
এরপর ফের নেশায় ডুবে যান বায়রন। সকালে তিনি নেশার জন্য আগুন ধরাতেই বিড়ি তৈরির সামগ্রীতে আচমকা তা ধরে যায়। তাতেই দাউদাউ জ্বলে যায় এবং বিশাল বাড়িতে নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে বিধ্বংসী আগুন। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, আগুন দেখেও বিচলিত হননি বায়রন। বরং তিনি বাড়ির ভিতরেই থাকতে চেয়েছিলেন। তাঁর নিজের ঘরে অগ্নিশিখা প্রথম দেখতে পান লাগোয়া বিড়ি কারখানার শ্রমিক ও ম্যানেজার। তাঁরাই বিধায়ককে ঘর থেকে বের করেন। ততক্ষণে শরীরের বেশ খানিকটা পুড়ে গিয়েছে। ওই অবস্থায় তাঁকে নিজেদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই আপাতত চিকিৎসা চলছে সাগরদিঘির বিধায়কের। সবমিলিয়ে বায়রনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে বেশ রহস্য ঘনিয়েছে।