নেই খিচুড়ি বা ভাত, ডাল-সবজি-ডিমেই মিড ডে মিল শ্যামপুরের অঙ্গনওয়াড়িতে
Sucheta Sengupta
দিনের পর দিন চালের অভাব। নেই খিচুড়ি বা ভাত। হাওড়ার শ্যামপুর দু'নম্বর ব্লকের শতাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আর মিলছে না সঠিক পুষ্টিকর খাবার। শিশু, প্রসূতিদের শুধুমাত্র দেওয়া হচ্ছে ডাল, সবজি ও ডিম। সপ্তাহখানেক ধরে এই একই মেনুতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। চালের সমস্যার দ্রুত মেটানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসনের কর্তারা। কিন্তু এতদিনেও সমস্যার সমাধান হয়নি। কবে ফের খিচুড়ির মতো পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার মিলবে অঙ্গনওয়াড়িতে, তারই অপেক্ষায় উপভোক্তারা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৩০টি আইসিডিএস কেন্দ্র রয়েছে শ্যামপুর দু'নম্বর ব্লক এলাকায়। অধিকাংশ আইসিডিএস সেন্টারেই এই সমস্যা চলছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীদের অভিযোগ, চাল না থাকায় খিচুড়ি অথবা ভাত হচ্ছে না। তাই শিশুদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। একই পরিস্থিতি প্রসূতিদেরও। আইসিডিএস সেন্টারের পক্ষ থেকে এমন গুরুতর সমস্যার কথা জানানো হয়েছে সিডিপিও-কে। অভিযোগ, চাল সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের কর্তাদের বারবার চালের জন্য বলা হলেও চাল পাঠানো হচ্ছে না। আবার কর্তৃপক্ষের কর্তারা অনেক আইসিডিএস সেন্টারের কর্মীদের ফোনও ধরছে না বলে অভিযোগ। ফলে বেশ বিপাকে পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীরা।
আরও পড়ুন:
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী জানান, ‘‘গত মাসের শেষদিকে পরিস্থিতি এমনটা হয়েছিল। আবার এই মাসের শুরুতেও একই অবস্থা চলছে। যারা চাল দেয় তাদেরকে বারবার ফোন করলে কোন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শিশুদের আমরা খিচুড়ি দিতে পারছি না। তাদের শুধুমাত্র ডাল, সবজি এবং ডিম দেওয়া হচ্ছে। কেন চাল আসছে না বুঝতে পারছি না। কবে এই সমস্যা মিটবে তাও জানি না।''
চালের অভাবে খিচুড়ি বা ভাত ছাড়াই ডাল, সবজি আর ডিম খাদ্য হিসাবে দিচ্ছে শিশু ও প্রসূতিদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী জানান, ‘‘গত মাসের শেষদিকে পরিস্থিতি এমনটা হয়েছিল। আবার এই মাসের শুরুতেও একই অবস্থা চলছে। যারা চাল দেয় তাদেরকে বারবার ফোন করলে কোন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শিশুদের আমরা খিচুড়ি দিতে পারছি না। তাদের শুধুমাত্র ডাল, সবজি এবং ডিম দেওয়া হচ্ছে। কেন চাল আসছে না বুঝতে পারছি না। কবে এই সমস্যা মিটবে তাও জানি না।''
কিন্তু কেন আইসিডিএস সেন্টারে এই চালের সমস্যা? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে থেকে খাদ্য দপ্তরের কাছে চালের রিকুইজিশন পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী খাদ্য দপ্তর চাল পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু কোনও কারণে এখানে সমস্যা হয়েছে। অভিযোগ সময়মতো রিকুইজিশন পাঠানো হয়নি। তাই চাল পাঠানো হয়নি। সুতরাং, জেলা প্রশাসন এবং খাদ্যদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্যদপ্তর এবং শিশু, নারী কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকেও সমস্যা দ্রুত মেটানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সোমবার থেকে সমস্যা মিটে যাবে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা আতিয়ার রহমান খান বলেন, ‘‘আইসিডিএস সেন্টারগুলি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেখান দিনের পর দিন ভাত বা খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি কাজে গাফিলতির এটা চরম নিদর্শন।''