পর্যটক টানতে নতুনভাবে সাজছে জলপাইগুড়ির মধুবনী পার্ক, বরাদ্দ এক কোটি
Kousik Sinha
একপাশে মরাঘাটের জঙ্গল, চা বাগান। মাঝখান দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে আংরাভাসা নদী। সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের লেখায় বার বার উঠে এসেছে মধুবনীর কথা। বাম আমলে মন মুগ্ধ করা এই পরিবেশে গড়ে উঠেছিল মধুবনী ইকো পার্ক (Madhubani Park)। তৃণমূল আমলে কার্যত অবহেলায় নষ্ট হতে বসা এই পর্যটন কেন্দ্রকে আবার নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ। সংস্কার কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে এক কোটি টাকা। পুজোর আগেই পর্যটকদের জন্য মধুবনী ইকো পার্ক খুলে দেওয়া হবে বলে খবর।
শীতের মরশুমে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে মধুবনী থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায় বলেও জানিয়েছেন পর্যটনকেন্দ্রের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। ফলে জঙ্গল, নদী, চা-বাগান, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং পাহাড় সবকিছুকে একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে এই পর্যটনকেন্দ্রে।
একসময় ডুয়ার্সে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণের জায়গা ছিল এই কেন্দ্র। তৃণমূল সরকারের সময় থেকেই সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়েছিল বলে অভিযোগ। ভেঙে পড়েছিল পর্যটকদের থাকার ঘরগুলি। ধীরে ধীরে পর্যটকদের আনাগোনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার পুজোর আগে সেই মধুবনী পর্যটনকেন্দ্রকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে জোরকদমে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ। এক কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি কটেজ, বিনোদন পার্ক এবং আলোকসজ্জার পরিকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রথমদিকে মধুবনী পর্যটনকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতি। পরবর্তীতে ধূপগুড়ি থেকে পৃথক হয়ে বানারহাট ব্লক তৈরি হলে পর্যটনকেন্দ্রটি বানারহাট পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে আসে। এরপর সেটি জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জেলা পরিষদের অধীনে আসার পরও বেশ কয়েক বছর সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে ফের সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা।
জানা গিয়েছে, পর্যটনকেন্দ্রের আটটি থাকার ঘর সংস্কারের পাশাপাশি বিনোদন পার্কের উন্নয়ন এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকা এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পুজোর আগেই কাজ শেষ করে পর্যটকদের জন্য পর্যটনকেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহ সভাপতি সীমা চৌধুরী জানান, "মধুবনীকে ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর মতো একাধিক প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ রয়েছে। পাশে মধুবনী জঙ্গল, মরাঘাট রেঞ্জের খট্টিবাড়ি জঙ্গল এবং তোতাপাড়া বনবস্তি। তোতাপাড়ায় বনদুর্গা পুজোর পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও আদিবাসী নৃত্য দেখার সুযোগও পেতে পারেন পর্যটকেরা। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনাও রয়েছে।" শীতের মরশুমে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে মধুবনী থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায় বলেও জানিয়েছেন পর্যটনকেন্দ্রের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। ফলে জঙ্গল, নদী, চা-বাগান, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং পাহাড় সবকিছুকে একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে এই পর্যটনকেন্দ্রে। পুজোর আগেই সংস্কারের কাজ শেষ করে মধুবনীকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।