তৃণমূলের হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করার অভিযোগ। এবার গ্রেপ্তার খোদ পুলিশকর্মী! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার (Howrah) সাঁকরাইলে। ধৃতের নাম সাহিন মোল্লা ওরফে সানি। তিনি বর্তমানে শিবপুর পুলিশ লাইনে হোমগার্ডে ছিলেন। ধৃতকে এদিন আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরেই অ্যাকশন মুডে পুলিশ। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে যুক্ত থাকা তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের ছাড়া হবে না, সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলররা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন পুলিশকর্মী।
সাহিন মোল্লা ওরফে সানি সাঁকরাইলের রঘুদেববাটি চক শ্রীকৃষ্ণ এলাকার বাসিন্দা। প্রথমে তিনি মানিকপুর ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। পরে তাঁকে শিবপুর পুলিশ লাইনে হোমগার্ডে পাঠানো হয়। তৃণমূল আমল থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠতে থাকে। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সাঁকরাইলের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক প্রিয়া পালের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত তিনি! অভিযোগ, তাঁর হয়েই তোলাবাজি করতেন ওই পুলিশকর্মী। তাঁর উপরে তৃণমূল বিধায়কের হাত ছিল রয়েছে বলেই সাহিন প্রভূত ক্ষমতা নিয়ে চলাফেরা করতেন! সেই অভিযোগও উঠে এসেছে। বিজেপির অভিযোগ, সাহিন মোল্লা ওরফে সানি সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের হয়ে বিভিন্ন দোকান, প্রোমোটার ও সাট্টার ঠেকে গিয়ে ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণে টাকা তুলত। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পাল বলেন, ‘‘অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুলিশ প্রমাণ করুক।’’
রাজ্যে পালাবদলের পরেই দুর্নীতি ইস্যুতে জিরো টলারেন্সের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তোলাবাজি, দুর্নীতিতে পুলিশকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে শহর কিংবা শহরতলিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতানেত্রীরা।
রাজ্যে ক্ষমতা বদল হয়েছে। তৃণমূলকে পরাস্থ করে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। যদিও ওই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রিয়া পালই ফের জিতে বিধানসভায় গিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পরেই দুর্নীতি ইস্যুতে জিরো টলারেন্সের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তোলাবাজি, দুর্নীতিতে পুলিশকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে শহর কিংবা শহরতলিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতানেত্রীরা। সাঁকরাইল থানা পুলিশকর্মী সাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। বিজেপির শাখা সংগঠন সিংহ বাহিনীর হাওড়া জেলা প্রেসিডেন্ট সহদেব থান্ডার শনিবার সকালে ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই প্রথমে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ গ্রেপ্তারির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক বললেন, ‘‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
