তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে দলের অন্দরে চোরাগোপ্তা ক্ষোভ ছিলই। ছাব্বিশের ভোট বিপর্যয়ের পর তা যেন আরও প্রকট হয়েছে। অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়েও চলছে কাটাছেঁড়া। সেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভায় শেষ 'পুষ্পা-রাজ'। ভোটের ফলপ্রকাশের পর আরও একবার সেই ডায়মন্ড হারবার মডেলের কথা উল্লেখ করেই খোঁচা শুভেন্দুর। এদিকে, বাড়ি বসেই ফলতায় (Falta) হারের নেপথ্যে সেই 'রিগিং' তত্ত্বই আওড়ালেন অভিষেক।
ছাব্বিশের ভোটের আগে দফায় দফায় গোটা রাজ্যজুড়ে প্রচার করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একাধিক বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বারবার ডায়মন্ড হারবার মডেলের কথা উল্লেখ করেছেন। ফলতার ভোটের আগে অভিষেক দাবি করেছিলেন, 'দশবার জন্ম নিলেও ডায়মন্ড হারবার মডেল দমাতে পারবেন না'। যদিও পুনর্নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের পাশে দেখা যায়নি অভিষেককে। বলা ভালো, ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই যেন খানিকটা অন্তরালে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। পুনর্নির্বাচনের আগে একবারের জন্য ফলতায় প্রচারে যাননি। এদিকে, আবার শেষ মুহূর্তে ভোটের ময়দান থেকে পিঠটান নেন অভিষেকের 'ডান হাত' জাহাঙ্গির খান। তা নিয়ে দলের অন্দরেও উঠেছে নানা কথা।
স্বাভাবিকভাবে ফলতায় শেষ 'পুষ্পা-রাজ'। ভোটের ফলপ্রকাশের (Election Result 2026) পরই X হ্যান্ডেলে শুভেন্দু লেখেন, "কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হল ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে।" সরাসরি অভিষেক 'বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল' বলে খোঁচা দেন শুভেন্দু। তাঁর তোপ, 'প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনো কসুর করেনি'। 'সোনার ফলতা' গড়়ার আশ্বাসও দেন শুভেন্দু।
এদিকে, ভোটের ফলপ্রকাশের পর X হ্যান্ডেলে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আস্ফালনের সুর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি দাবি করেন, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের কথা বললেও, তা হয়নি। গত ১০ দিন ধরে ফলতার অন্তত ১ হাজার তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া বলেও অভিযোগ তাঁর। তা সত্ত্বেও কমিশন কোনও ব্যবস্থা করেনি।
