সুরজিত দেব, ডায়মন্ড হারবার: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য ও তার সঙ্গী। অভিযোগ, এলাকায় সরকারি কাজে মালপত্র রাখার জন্য ঠিকাদার সংস্থার থেকে মোটা টাকা দাবি করত অভিযুক্তরা। এক ঠিকাদার সংস্থার কর্ণধার ঘটনাটি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি।
[আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি নিয়ে স্কুলে পড়ুয়াদের হাতাহাতি, সামাল দিতে লাঠিচার্জ পুলিশের]
ডায়মন্ড হারবারের চেওড়া এলাকায় মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, কিষাণ মান্ডি-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নির্মাণকাজ চলছে। সেই কারণে এলাকায় স্টোন চিপস, বালি, সিমেন্ট ইত্যাদি এলাকায় মজুত করছে ঠিকাদার সংস্থা। সেই সংস্থার কর্ণধার গৌতম দত্ত ডায়মন্ড হারবার থানার দ্বারস্থ হন পঞ্চায়েত সদস্য মুজদিন শেখের বিভিন্ন একাধিক অভিযোগ নিয়ে। তিনি জানান, সরকারি কাজের জন্য এলাকায় ইমারতি দ্রব্য মজুতের ক্ষেত্রে ওই পঞ্চায়েত সদস্য তাঁকে বাধা দিচ্ছে ওই পঞ্চায়েত সদস্য। মালপত্র বোঝাই লরিগুলি আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে ওই ব্যক্তি ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। এমনকী ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি জানান অভিযুক্তদের দাবি মতো তোলা দিলে তবেই এলাকায় মালপত্র মজুত করতে দেওয়া হবে বলেও জানায় অভিযু্ক্তরা।
ঘটনার তদন্তে নেমে বুধবার ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। এদিন দুপুরেই দু’জনকে ডায়মন্ড হারবার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে দেড় হাজার বন্ডে তাদের জামিন দেন বিচারক। পঞ্চায়েত সদস্যের গ্রেপ্তারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। এ প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরুময় গায়েন জানিয়েছেন, “আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়াই প্রশাসনের কাজ। তাতে কে তৃণমূল, কে সিপিএম, কে বিজেপি বা কংগ্রেস বিচার করা হয় না।” ওই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দলীয়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি। ব্লক সভাপতি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দলকে কালিমালিপ্ত করলে কেউই ছাড় পাবে না।
