shono
Advertisement
Kakoli Ghosh Dastidar

তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, নাম না করে বিঁধলেন আইপ্যাককে

দিন কয়েক আগেই লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 06:56 PM May 24, 2026Updated: 07:31 PM May 24, 2026

ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। বারাসত, বারাকপুর-সহ উত্তর ২৪ পরগনার বেশিরভাগ আসনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। আর এই পরিস্থিতিতে নাম না করে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাককে বিঁধে বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে তিনি তা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি অবশ্য এও জানিয়েছেন, বারাসতে দলের পরাজয়ের নৈতিক দায় নিয়ে তিনি জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

Advertisement

রবিবার দলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ইস্তফাপত্রের গোড়াতেই তিনি উল্লেখ করেছেন সাম্প্রতিক সময় দলের দুর্নীতির কথা। পরে অবশ্য লিখেছেন বারাসতে দলের পরাজয়ের নৈতিক দায় নিয়ে তিনি ওই পদ থেকে অব্যাহতি চাইছেন। সেইসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আবেদন, বিগত দিনের মতো দলের সৎ, পুরনো, নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোড় সংস্থার দ্বারা কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না। 

বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে কাকলির ইস্তফাপত্র

সাংবাদিক বৈঠক করে কাকলির অভিযোগ, ‘‘আইপ্যাককে আমি নিয়োগ করিনি। কিন্তু দেখেছি, ওদের সব বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা এসে আমাদের  মতো দলের সর্বক্ষণের কর্মীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে যে বলার নয়। আমি এখানে ১৭ বছর ধরে আছি জনপ্রতিনিধি হিসেবে। আমার অফিসের দ্বার জনতার কাছে অবারিত, ২৪ ঘণ্টা অফিস খোলা থাকে, লোক থাকে। যার যা অভিযোগ, দাবি সবই এখানে জমা দেওয়া হতো। আমি আমার লোকসভা এলাকার ৭টা বিধানসভায় এতদিন ধরে অনেক কাজ করেছি। আশা করেছিলাম, জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু ফলাফলে বোঝা গেল, মানুষ মেনে নেয়নি। দলে সর্বস্তরে দুবৃত্তায়ন হয়েছে। তবে আমি তৃণমূলের ৮০তে নেমে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।''  

ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের বহু যুগের সৈনিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নানা সময়ে পথে নেমে আন্দোলনে তাঁকে দেখা গিয়েছে। বারাসতের তিন তিনবার সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এবং মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদও এতদিন সামলেছেন। লোকসভাতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তা হল, মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে দলের বড় বিপর্যয়ের পর ওই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চিফ হুইপের দায়িত্ব পান আরেক বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কাকলি বেশ গোঁসা করে পোস্ট করেছিলেন সোশাল মিডিয়ায়। লিখেছিলেন, দলের প্রতি চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার মিলল।

এরপর রবিবার দলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ইস্তফাপত্রের গোড়াতেই তিনি উল্লেখ করেছেন সাম্প্রতিক সময় দলের দুর্নীতির কথা। পরে অবশ্য লিখেছেন বারাসতে দলের পরাজয়ের নৈতিক দায় নিয়ে তিনি ওই পদ থেকে অব্যাহতি চাইছেন। সেইসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আবেদন, বিগত দিনের মতো দলের সৎ, পুরনো, নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোড় সংস্থার দ্বারা কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না। 

পরে সাংবাদিক বৈঠক করে কাকলির অভিযোগ, ‘‘আইপ্যাককে আমি নিয়োগ করিনি। কিন্তু দেখেছি, ওদের সব বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা এসে আমাদের  মতো দলের সর্বক্ষণের কর্মীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে যে বলার নয়। আমি এখানে ১৭ বছর ধরে আছি জনপ্রতিনিধি হিসেবে। আমার অফিসের দ্বার জনতার কাছে অবারিত, ২৪ ঘণ্টা অফিস খোলা থাকে, লোক থাকে। যার যা অভিযোগ, দাবি সবই এখানে জমা দেওয়া হতো। আমি আমার লোকসভা এলাকার ৭টা বিধানসভায় এতদিন ধরে অনেক কাজ করেছি। আশা করেছিলাম, জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু ফলাফলে বোঝা গেল, মানুষ মেনে নেয়নি। দলে সর্বস্তরে দুবৃত্তায়ন হয়েছে। তবে আমি তৃণমূলের ৮০তে নেমে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।''  তবে কাকলির এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলেই প্রশ্ন, দলের পরাজয়ের পর কেন এসব ত্রুটি তুলে ধরছেন তিনি? সমস্যা বুঝতে পারলে আগেই দলের অন্দরে আলোচনা করে তা শুধরে নিতে পারতেন।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement