সাত বিঘা এনক্লোজারের ভিতরেই বাঘিনী! আরও ৬ দিন পর্যটকদের জন্য বন্ধ বক্সা
Kousik Sinha
বক্সায় (Buxa Tiger Reserve) আরও ছ'দিন বন্ধ থাকবে পর্যটন। বাঘিনী ছাড়ার কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটনের সব কাজ বন্ধ রেখেছিল বনদপ্তর। পর্যটন বন্ধের সেই নোটিস আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নোটিসে বলা হয়েছে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সাতে পর্যটনের সবকিছু বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সা টাইগার রিজার্ভে ঢুকতে পারবেন না পর্যটকরা। জিপসি সাফারিও বন্ধ থাকবে। বনাঞ্চলের ভেতরে রাত্রিযাপনও বন্ধ থাকবে। বন দপ্তরের এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে গিয়েছেন বক্সা টাইগার রিজার্ভের ভিতরে থাকা ১৮টি গ্রামের মানুষ।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহার থেকে আনা বাঘিনী এখনও বক্সার ২৫ মাইল এলাকায় তৈরি প্রায় সাত বিঘা এনক্লোজারের ভেতরেই রয়েছে। আর বাঘিনীর যাতে কোনওরকম অসুবিধী না হয়, সেই কারণে বনাঞ্চলে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করছে বনদপ্তর।
জয়ন্তীর বাসিন্দা মোহন ছেত্রী বলেন, "বাঘিনী আনার কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর চারদিন পর্যটন বন্ধের নোটিস দিয়েছিল বনদপ্তর। আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ একটি কাজ করতে গেলে কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করতে হয়। এখন আবার নতুন নোটিসে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের রুটিরুজি সব শেষ হয়ে গেল। আমরা বাঁচব কিভাবে? এমনিতেই জুন থেকে সেপ্টেম্বর বনাঞ্চল বন্ধ থাকে। এরপর আবারও এভাবে বনাঞ্চল বন্ধ রাখলে আমাদের চলবে কীভাবে?" জয়ন্তীর আরেক বাসিন্দা কুরবান আলি বলেন, " বনদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী আমরা জিপসি সাফারির নতুন গাড়ি কিনেছি। সেই সব গাড়ির প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। তিনমাস বনাঞ্চল বন্ধ ছিল। তারপর জঙ্গল খুললেও বক্সাতে পর্যটন চালু হল না। এই অবস্থায় আমরা ভেবেছি গাড়ির সব চাবি বনদপ্তরে গিয়ে জমা দিয়ে আসব। তাছাড়া আর কোনও উপায় নেই।"
আরও পড়ুন:
এদিকে বনকর্তারা এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। তবে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহার থেকে আনা বাঘিনী এখনও বক্সার ২৫ মাইল এলাকায় তৈরি প্রায় সাত বিঘা এনক্লোজারের ভেতরেই রয়েছে। আর বাঘিনীর যাতে কোনওরকম অসুবিধী না হয়, সেই কারণে বনাঞ্চলে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করছে বনদপ্তর। পর্যটকরা বনাঞ্চলে ঢুকলে, সাফারি করলে বাড়তি কোলাহল তৈরি হবে। এমনকি পর্যটকদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণে বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধের সময় বাড়ানো হয়েছে। যদিও বনদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনবস্তির মানুষ।