ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেম ওয়ার্ক প্রকাশিত তালিকায় আবারও পিছিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা, প্লেসমেন্ট পারফরম্যান্স, কর্পোরেট সংযোগ এবং কর্ম সংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় আরও অবনমন। আইআইআরএফ-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে বিশ্বভারতীর অবস্থান ছিল ১৫তম। চলতি বছরে তা নেমে এসেছে ২০তম স্থানে। এর জেরে বিশ্বভারতীর সামগ্রিক শিক্ষার মান, গবেষণা পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া। সেই তালিকায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বভারতীর স্থান ২০তম।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্বভারতীর অবস্থান ছিল অষ্টম। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ১৪তম স্থানে। ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৭তম স্থানে এবং ২০২৬ সালে আরও পিছিয়ে ২০তম স্থানে পৌঁছেছে। তবে এই র্যাঙ্কিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংস্থার প্রকাশিত র্যাঙ্কিং। এ বিষয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আমাদের কাছে এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে উন্নতি না হলে এই ধরনের র্যাঙ্কিং থেকে বিশেষ লাভ নেই।”
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল অর্থাৎ এনএএসি মূল্যায়ন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক সূচকেও গত কয়েক বছরে বিশ্বভারতীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই আবহেই প্রকাশিত হয় আইআইআরএফ-এর এই নতুন তালিকা। যদিও নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। এ বিষয়ে প্রবীণ আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদার এবং অপর্ণা দাস মহাপাত্র বলেন, “গত কয়েক বছরে আইআইআরএফ ও এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বভারতীর অবস্থান ধারাবাহিকভাবে নীচের দিকে নেমেছে, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে আমরা আশাবাদী, বর্তমান সমস্যাগুলি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আবারও শিক্ষার মান, গবেষণা এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে তার পূর্ব গৌরব ফিরে পাবে।”
