মুম্বইয়ের ইসকন মন্দিরে ত্রিপক্ষীয় জোট, বৈদিক শিক্ষায় কর্পোরেট বিশ্বকে জুড়বে বি.আর.সি.
Buddhadeb Halder
আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার সেতু বাঁধার কাজ শুরু করল ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার (বিআরসি)। সমকালীন নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠনের কার্যকারিতা বাড়াতে ভারতীয় বৈদিক দর্শনকে কাজে লাগানোই এই উদ্যোগের আসল উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্যে সম্প্রতি 'ভিমেন্টর ডট এআই' ও 'সারথি ডট এআই'-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মুম্বইয়ের জুহু এলাকার ইসকন মন্দিরে (Mumbai ISKCON) বিশেষ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে বিআরসির ট্রাস্টি শ্রী গৌরাঙ্গ দাস ও ডিন ডক্টর সুমন্ত রুদ্র উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভিমেন্টর ডট এআই-এর পক্ষে দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা মীনু ভাটিয়া ও ডক্টর শ্রীনিবাস চুন্দুরু চুক্তিতে সই করেন।
আরও পড়ুন:
ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও ঐতিহ্যে মানুষের আচরণ, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ রয়েছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সফল প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বহু সুনির্দিষ্ট পথ দেখানো হয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে শুধু পুঁথি বা ইতিহাস চর্চার মধ্যে আটকে রাখতে চান না গবেষকেরা। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কাজের জগতে ওই শিক্ষাকে প্রয়োগ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
বিআরসির ডিন ডক্টর সুমন্ত রুদ্র জানিয়েছেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি হবে। সেখানে ভারতীয় মূল্যবোধের মৌলিকতা বজায় রেখেই আধুনিক কর্পোরেটের চাহিদা মেটানো হবে। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাচীন কৌশল কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ভিমেন্টর ডট এআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মীনু ভাটিয়ার মতে, ভারতের অতীত ঐতিহ্য থেকে সফল নেতৃত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠান গড়ার অনেক মূল্যবান দিশা পাওয়া যায়। সেই সূত্রগুলো খুঁজে বের করাই তাঁদের লক্ষ্য। বিআরসির ট্রাস্টি শ্রী গৌরাঙ্গ দাস যোগ করেন, জ্ঞানভাণ্ডারের স্বকীয়তা অটুট রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া দরকার।
এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ উদ্যোগের ফলে বিআরসির প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, ভিমেন্টর ডট এআই-এর ব্যবস্থাপনা রূপান্তরের অভিজ্ঞতা এবং সারথি ডট এআই-এর আধুনিক প্রযুক্তির সম্মেলন ঘটতে চলেছে। যৌথ প্রয়াসে ব্যবসায়িক কার্যকারিতা বৃদ্ধির এক নতুন সম্ভাবনার মুখ দেখতে চলেছে ভারতীয় শিল্পক্ষেত্র।