২ জুন, মঙ্গলবার যাদবপুরের ২ নম্বর স্টেশনে উচ্ছেদের সূত্রপাত। সেদিন স্টেশনের বাইরে বুলডোজারের দেখা মিলতেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদে সুর চড়ান এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন সহ সিপিএম নেতা-কর্মীরা। রবিবার ফের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর। ঘটনায় আটক এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন। পুলিশের লাঠিচার্জের জখমও হন অন্তত ১৩ জন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে। কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন কেপিসিতে। এই ঘটনার বিরোধীতা করেছেন বামপন্থী সেলেব সমর্থকরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঊষসী চক্রবর্তীর চোখে মুখে যন্ত্রণার ছাপ একেবারে স্পষ্ট। যাদবপুরের ঘটনায় অভিনেত্রীর প্রশ্ন, 'বিদেশের মতো চকচকে রাস্তা যারা চাইছেন তাঁরা আশা করি বিদেশের মতোই মনোবাধিকার, মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও দাবি জানাবেন?'
ঋদ্ধি সেন, টলিপাড়ার বামপন্থী অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত। যে কোনও বিষয়ে মতপ্রকাশেও একেবারে অকুতোভয়। রবিবাসরীয় রাতে যাদবপুরে বুলডোজার অ্যাকশনের পর 'পরিবর্তন' শব্দে আপত্তি তুলেছেন কৌশিক পুত্র। তাঁর মতে, 'নাগরিকদের শরীরের রক্ত ঝরিয়ে রাতের অন্ধকারে বন্দুক, লাঠি, বুলডোজার দিয়ে ঘিরে ধরে নাগরিকদের প্রতিবাদ, কর্মস্থল এবং মানবিক অধিকার গুঁড়িয়ে দিয়ে উন্নয়ন আনার কথা বলে যে রাজনীতি সেই রাজনীতি ভয়াবহ, অমানবিক। এটাকে যাঁরা উন্নয়ন বলছেন এবং বলবেন তাঁরা কোনও ভয়মুক্ত পরিবর্তন চান না। নিজের সহ নাগরিকের শরীর থেকে ঝরা রক্ত আর কান্নার ওপর দাঁড়িয়ে উন্নয়ন চান।'
এই আগ্রাসন কখনও প্রকৃত পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত হতে পারে না বলে দাবি পরিচালক-নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধীর। সৃজনদের সমর্থনে তাঁর একটাই বক্তব্য, 'সরকারের এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে রইলাম। মানুষের পাশে সৃজনরা আজও আছে।' অভিনেতা ঋত্বিকের নীরব প্রতিবাদ, 'তারপর ডাস্টবিনে একফালি ছেঁড়া আকাশ অবহেলায় থেকে গেল অনেকক্ষণ...'।
রক্তক্ত সিপিএম কর্মীর ছবি পোস্টে একরাশ হতাশা নিয়ে সিনেপাড়ার পরিচালক-অভিনেত্রী মানসী সিনহার ছিছিক্কার। এমন ঘটনা খুব প্রয়োজন ছিল কিনা সেই প্রশ্নই ছুড়ে দিয়েছেন। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও এই ঘটনায় আতঙ্কিত। ভয়ের মোড়কে লিখেছেন, 'এটাই কি শেষের শুরু?'
প্রতিবাদী মানসী
আতঙ্কিত শ্রীলেখা
প্রসঙ্গত, যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিধায়ক শর্বরীর যুক্তি, সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। যাদবপুর এলাকার মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই দুই স্টেশনে বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ নিয়ে সিপিএম নাটক করছে। শর্বরীর বক্তব্য, "যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় যাঁরা হকারি করেন তার মধ্যে অগ্রাধিকার পাবেন যাদবপুরের দশটা ওয়ার্ডের মানুষই। লক্ষ্মীকান্তপুর, ক্যানিং থেকে এসে হঠাৎ করে এখানে বসে পড়লে হবে না।"
শর্বরীর যুক্তি
বিগত ১৫ বছর ধরে যাঁরা তৃণমূলকে টাকা দিয়ে হকারি করেছেন, তাঁদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক। অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে সিপিএমের প্রতিবাদ মিছিল থেকে সৃজন জানান, "৮৮ সালের রায় অনুযায়ী, যাদবপুর, বাঘাযতীন অঞ্চলের যাঁরা ব্যবসায়ী আছেন বা যাঁদের ঝুপড়ি আছে, তাঁদের বাসস্থান শুধু নয়, বিকল্প কোনও কর্মসংস্থানের জায়গার ব্যবস্থা না করে এখান থেকে সরানো যাবে না।"
