প্রায় এক বছর হয়ে গেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান পাচ্ছেন না টি-টোয়েন্টিতে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তাঁর ব্যাটিং তথৈবচ ছিল। সূর্যকে দলে রাখা নিয়ে জাতীয় নির্বাচকরা মোটেও আর নিশ্চিত নন। বলাবলি চলছে, আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাত টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজই শেষ সুযোগ হতে পারে সূর্যর। আর তিনি অধিনায়ক না থাকলে, দলে ব্যাটার হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও কম। খবর যা, সূর্যকুমারকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর।
বোর্ড মহল থেকে শোনা যাচ্ছে, নির্বাচক কমিটি সূর্য-যুগ পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চায়। কিন্তু ভারতীয় বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্তারা আবার মনে করেন, একটা টিমকে সাফল্য পেতে গেলে কোচ-অধিনায়কের রসায়ন মজবুত থাকা দরকার। তাই সূর্যকে নিয়ে গম্ভীর কী মতাতমত পেশ করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
ট্রফি হাতে গৌতম গম্ভীর এবং সূর্যকুমার যাদব। ছবি এক্স।
বিগত এক বছর ধরে লাগাতার অনুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় রয়েছে সূর্যকুমারের পারফরম্যান্স। পাঁচ জাতীয় নির্বাচক একযোগে চান, সূর্যকে দল থেকে বাদ দিতে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কিছু দিন পর থেকে এ হেন ভাবনা জাতীয় নির্বাচকদের মধ্যে ঘুরছিল। প্রথমে নির্বাচকরা ভেবেছিলেন, আইপিএলে নিজের ফর্ম ফিরে পাবেন সূর্য। ঠিক যেমন গত মরশুমে হয়েছিল। গত আইপিএলে সাতশো রান করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সবাই আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করেন, নিজের টেকনিকগত ভুলত্রুটি শুধরানোর কোনও চেষ্টাই করেননি সূর্য। ক্ষুব্ধ ভাবে বলা হচ্ছে, আনকোরা পেসাররা পর্যন্ত হার্ড লেংথে বোলিং করে বিপদে ফেলে দিচ্ছেন সূর্যকে। তাঁর কাছে কোনও জবাবি প্রত্যুত্তরই থাকছে না। পরিস্থিতি যা, তাতে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিমে সূর্যকে ধর্তব্যেই রাখছেন না জাতীয় নির্বাচকরা। নির্বাচকদের যুক্তি হল, দলে যাঁর ব্যাটার হিসেবেই জায়গা হয় না, তিনি নেতা হবেন কী করে?
কিন্তু মুশকিল হল, নির্বাচক কমিটির ইচ্ছেয় সব হবে না। অন্তত সূর্যকুমারের ভাগ্য নির্ধারণ হবে না। সেখানে গম্ভীর যা বলবেন, সেটাই চূড়ান্ত হবে। লিখে রাখা যাক, ভারতীয় কোচের সঙ্গে সূর্যর সম্পর্ক অসম্ভব ভালো। তাই গম্ভীর যদি না চান, সূর্যকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হতে পারে নির্বাচকদের।
