মরশুমের শুরু থেকে প্রথম ১৩ ম্যাচ তাঁকে বেঞ্চে কাটাতে হয়েছে। বেঞ্চে বসেই দলের একের পর এক হার দেখেছেন। দেখেছেন কীভাবে তাঁর চেয়ে 'সিনিয়র' বোলাররা একের পর এক ম্যাচে দলকে ডোবাচ্ছেন। অথচ একটা ম্যাচেও তাঁকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবেনি লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যানেজমেন্ট। অর্জুন তেণ্ডুলকর (Arjun Tendulkar) সেই সুযোগ পেলেন মরশুমের একেবারে শেষে-গুরুত্বহীন ম্যাচে। কিন্তু তাঁর রক্তে ক্রিকেট। তিনি জানেন সুযোগ কীভাবে কাজে লাগাতে হয়। শনিবার সেটাই করলেন। লখনউ জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে বেশ নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখালেন অর্জুন। ছেলের খেলা দেখে স্বভাবতই গর্বিত বাবা শচীন তেণ্ডুলকর।
৩০ লক্ষ টাকায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে ট্রেড হয়ে আসা অর্জুন শনিবার লোয়ার অর্ডার অলরাউন্ডারের ভূমিকায় খেলেন। ব্যাট হাতে বিশেষ নজর কাড়তে পারেননি। ৫ বল খেলার সুযোগ পেয়েছেন। পাঁচ বলেই সিঙ্গল নিয়ে উলটো দিকে সিনিয়র ব্যাটারকে স্ট্রাইক দেন। কিন্তু বল হাতে অর্জুন যা খেললেন সেটাকে শুধু নজরকাড়া বললে কম বলা হয়। অর্জুনের ভাগ্য সহায় থাকলে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিতে পারতেন। প্রথম ওভারে তাঁর দেওয়া অনবদ্য বাউন্সার সামলাতে পারেননি পাঞ্জাবের প্রভসিমরন গিল। পুল করতে গিয়ে বল ব্যাটার কানায় লাগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু অধিনায়ক ঋষভ পন্থ উইকেটের পিছনে সেই ক্যাচ নিতে পারেননি। ফলে উইকেট জোটেনি।
কিন্তু অর্জুন হতাশ হননি। লাগাতার সঠিক লাইন-লেংথে বল করার চেষ্টা করেছেন। বলের গতিও আগের চেয়ে বেড়েছে। এখন নিয়মিত ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটারের ঘরে বল করে চলেছেন। শনিবার শ্রেয়স আইয়ারদের বিরুদ্ধে যেখানে মহম্মদ শামি-প্রিন্স যাদব-মহসিন খানরা প্রত্যেকেই ১১-১২ রান করে ওভারে বিলিয়ে গেলেন সেখানে অর্জুন দিলেন ওভারে মাত্র ৯ রান করে। সঙ্গে নিখুঁত ইয়র্কর লেংথের বলে তুলে নিলেন সেট হয়ে যাওয়া প্রভসিমরনের উইকেট। তাছাড়া যেভাবে ডেথ ওভারে নিয়মিত ইয়র্কর তিনি করছেন, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। দিনের শেষে ৪ ওভার বল করে এক উইকেটে ৩৬ রান দিলেন তিনি। চার ওভারের মধ্যে দু'ওভার তিনি করেছেন পাওয়ারপ্লে-তে বাকি দু'ওভার ডেথ ওভারে। অর্জুনের এই পারফরম্যান্স দেখে এখন হয়তো লখনউ ম্যানেজমেন্ট হাত কামড়াচ্ছে। পন্থরা হয়তো ভাবছেন, অর্জুনকে মরশুমের শুরু থেকে খেলালে মরশুমটা অন্যরকম হত।
ছেলের এই পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত বাবা শচীন তেণ্ডুলকর। তিনি সোশাল মিডিয়ায় বললেন, 'খুব ভালো খেলেছ অর্জুন। পুরো মরশুমে যেভাবে নিজেকে সামলে রেখেছ, তাতে আমি গর্বিত। নিজের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস রেখেছ, ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছ এবং সুযোগের অপেক্ষায় থেকেও ইতিবাচক থেকেছ। ক্রিকেট শুধু দক্ষতার নয়, ধৈর্যেরও পরীক্ষা নেয়। আজ তুমি দুটোই দারুণভাবে সামলে নিয়েছ।" শচীন বলেন, 'পা মাটিতে রেখে তুমি ক্রিকেটটাকে যেভাবে ভালোবেসেছ, সেভাবেই ভালোবেসে যাও। আমরা সবসময় তোমার পাশে।"
