'বই খাতা প্যাকআপ, রাতভর ঠাকুর দেখা সঙ্গে আইসক্রিম খাওয়া', শারদীয়ার স্মৃতিচারণায় রূপাঞ্জনা
Kasturi Kundu
বাংলা মেগা থেকে সিনেমা ও সিরিজের অত্যন্ত পরিচিত মুখ রূপাঞ্জনা মিত্র। এখন তো আবার সকলের প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখা যাবে রান্নার নতুন শো, 'রাঁধুনি না কাঁদুনি'-তে। তবে পুজোর সময় একেবারে পারিবারিক সময় কাটাবেন রূপাঞ্জনা (Rupanjana Mitra)। অন্য বছর ষষ্ঠী, সপ্তমী শুটিং করলেও এবছর সেই পথে পা বাড়াচ্ছেন না। ছাব্বিশের শারদীয়ায় কর্মব্যস্ততাকে গুডাবাই বলেছেন রূপাঞ্জনা। তাহলে পুজোয় বিরাট কোনও প্ল্যান? খোঁজ নিল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
রূপাঞ্জনা জানান, "এখনও কোনও প্ল্যান হয়নি। তাছাড়া আমি কখনও আগে থেকে কোনও প্ল্যানও করি না। কখন কোথায় কোন পরিস্থিতিতে থাকি। তবে হালকা ম্যাপিং করে রাখি, কী কী করব। আসলে এই চারটে দিন সবকিছুই পুজোকে কেন্দ্র করে। অনেক কাজও থাকে। এতদিন সপ্তমী পর্যন্ত শুটিং করতাম। যদিও এবার সেটা করছি না। এমন কোনও কাজ রাখিনি যেটা সময়সাপেক্ষ। পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাব।" গ্ল্যামার দুনিয়ায় তো ডায়েট মাস্ট। নিজেকে ফিট রাখতে কম বেশি প্রত্যেকেই ডায়েট মেনে চলেন। কিন্তু, পুজোর সময়?
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন শুনেই রূপাঞ্জনার সপাট জবাব, "পুজোয় কোনও ডায়েট নয়। গুড বাই অল ডায়েট। আমি তো বলব, চোখের সামনে যা দেখবে যদি মনে হয় খাওয়ার উপযুক্ত তাহলে চেখে দেখবে। এই ক'দিন শুধু জমিয়ে খাওয়াদাওয়া।" পুজোর দিনগুলো কীভাবে কাটাতে ভালোবাসেন? ঘরে বসে দেদার আড্ডা নাকি ভিড় ঠেলে প্যান্ডেল হপিং? অভিনেত্রী বলেন, "দুটো ভালো লাগে। ঘরের আড্ডাও যেমন ভালো লাগে তেমনই আবার প্যান্ডেলে গিয়ে ঠাকুর দেখার আলাদা মজা। পুজোর ক'টা দিন তো ঘুম বলে কিছু হয় না। রাতভর শুধুই আনন্দ করে কাটানো।"
পুজোয় কেমন সাজ পছন্দ? রূপাঞ্জনার সংযোজন, "পুজোয় সাবেক সাজটাই আমার ভালো লাগে। অষ্টমীতে শাড়ি মাস্ট। ছোট থেকে ফ্রক, আবার যখন একটু বড় হলাম তখন স্কার্ট, সালোয়ার বা ট্রেন্ডিং ড্রেস পরতাম। এখন যদি বলা হয়, তাহলে বলব শাড়িই আমার প্রথম পছন্দ। পুজোর ক'টা দিন শাড়ি আমার নিত্যসঙ্গী।" সাবেকিয়ানা ভালো লাগে নাকি থিমের প্রতিযোগীতা দেখতে? রূপাঞ্জনা মিত্রের কথায়, "সাবেকিয়ানা আর থিম দুটোই আমার ভীষণ পছন্দ। একটা ঐতিহ্য আরেকটা গর্ব। কলকাতার পুজোয় একটা আলাদা মাদকতা, রোমান্টিসিজম আছে। আমার মনে হয় যাঁরা বাংলায় থাকেন সেটা প্রত্যেকে অনুভব করেন।"
পুজোয় কখনও প্রেমে পড়েছেন? খানিক হেসে অভিনেত্রী বলেন, "পুজোয় আলাদা করে প্রেম হয়নি। এই সময় তো মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। মা তাঁর বাপের বাড়ি আসেন। ওটাই তো সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত প্রেম। সকলের সঙ্গে দেখা হওয়া, দেদার আড্ডা দেওয়া, একে অন্যের বাড়ি যাওয়া এগুলোই তো ভালোবাসা। সারাবছর ব্যস্ততার জন্য যেগুলো করা হয় না, সেটাই পুজোর কয়েকটা দিনে পূরণ করার সময়। ছোট ছোট আনন্দগুলোর মধ্যেই থাকে ভালোবাসা।"
ছোটবেলার পুজোয় কাটানো দিনগুলোর কথা মনে পড়লে মন ভারাক্রান্ত হয়? সঙ্গে সঙ্গে বলেন, "ভীষণরকমের। ছোটবেলার পুজো মানেই বই খাতা প্যাকআপ। আমার বড় হওয়া গড়িয়াহাটের ফ্ল্যাটে। সেখানে ৮২টি ফ্ল্যাট। পুজোর ওই ক'টা দিন সকাল থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তোরজোর, নাটক মঞ্চস্থ করার মহড়া এগুলো খুব মনে পড়ে। পঞ্চমী থেকেই পুজোর আনন্দ শুরু হয়ে যেত। রাতভর ঠাকুর দেখা, আইসক্রিম পার্লার খুলিয়ে আইসক্রিম খাওয়া সেগুলো একটা দিন ছিল বটে। বড় হওয়ার পরও এগুলো কিন্তু, রক্তে মিশে রয়েছে। মেয়েবেলার পুজোর স্মৃতিচারণ করলেই নস্ট্যালজিক হয়ে পড়ি।"
অষ্টমীর অঞ্জলি আর দশমীর বিসর্জন, এই দুটো দিন বাঙালির কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রূপাঞ্জনা মিত্রের কাছেও কী তাই? সুরে সুর মিলিয়ে বললেন, "কে আগে স্নান করে অঞ্জলি দিতে যাবে সেটা নিয়ে একটা প্রতিযোগীতা ছিল। আমি যে ফ্ল্যাটে বড় হয়েছি সেখানে পুজোর উন্মাদনাটাই ছিল আলাদা। পুজোর প্রস্তুতি, অঞ্জলি দিয়ে প্রসাদ খাওয়া, বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সবকিছুর সঙ্গেই একটা আবেগ জড়িয়ে ছিল। আর দশমীর ভাসান তো আরও দারুণ। ওই ফ্ল্যাটের বিশেষত্ব মা দুর্গা পরিবার নিয়ে যে ট্রাকে থাকবেন সেখানে কোনও দুষ্টু বাচ্চার স্থান নেই। আমি এতটাই দুষ্টু ছিলাম যে বড়দের হাত ধরে যেতে হত। দু-তিনটি ট্রাকের মধ্যে রেষারেষি হত। কোন ঠাকুর আগে ঘাটে পৌঁছাবে। ওটাই মজা। মায়ের বিসর্জনের পর মাথায় বেলুন বেঁধে উদ্দাম নাচের সঙ্গে বলো দুগ্গা মাই কীর তালে ধুনুচি নাচ, উফ সে এক দারুণ সময়।"