'পুজোয় প্রেম হয়নি, তবে প্রেমের পর পুজোগুলো স্পেশাল হয়েছে', খোলামেলা আড্ডায় মানসী
Kasturi Kundu
কখনও টেলি পর্দার দাপুটে খলনায়িকা তো কখনও আবার গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র। যে কোনও চরিত্রেই দক্ষ অভিনেত্রীর ছাপ রেখে যান। কেন্দ্রীয় চরিত্র তথা সিরিয়ালের নায়িকা না হয়েও বাংলা মেগার দর্শকের ঘরের মেয়ে ওঠা যায় সেটা বারবার প্রমাণ করেন। তিনি আর কেউ নন, টেলি অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত (Manasi Sengupta)। এখন তো আবার জীবনের আরও এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও পা রেখেছেন। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মানসী। ব্যস্তাতার মাঝে পুজোর দিনগুলো কীভাবে কাটাবেন, খোঁজ নিল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
পুজো নিয়ে আড্ডার শুরুতেই বলেন, "এবার কিন্তু, পুজোর শুরুতেই শহর ছেড়ে যাচ্ছি না। প্রতিবার পুজোয় ঘুরতে যাই। এবার ভেবেছি নবমী পর্যন্ত কলকাতায় থাকব। তারপর পরিবারের সঙ্গে গোয়া যাচ্ছি। তাছাড়া ষষ্ঠী পর্যন্ত তো শুটিংই রয়েছে।" এবার পুজোয় কেন আচমকা প্ল্যান চেঞ্জ? মানসীর মিষ্টি উত্তর, "গত বছর ছেলে খুবই ছেট ছিল। তখন কিছুই বুঝত না। এবার অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে। তাই ওকে নিয়ে প্যাণ্ডেলে যাব, অঞ্জলি দেব।"
আরও পড়ুন:
এবার তাহলে পুজোয় যে'কটা দিন শহরে প্রচুর ঠাকুর দেখার প্ল্যান? সঙ্গে সঙ্গে বলেন, "না না, সারাবছর শুটিংয়ের জন্য চূড়ান্ত ব্যস্ততা থাকে। তাই এই কটা দিন বাড়িতে সকলের সঙ্গে আড্ডা দেব। ধারেপাশের ফাঁকা প্যাণ্ডেলে ছেলে মেয়েদের নিয়ে যাব। বন্ধুরা আসলে ভালো আর যদি না আসে তাহলেও বাড়িতে রিল্যাক্স করব।"
পুজোর দিনগুলোতে কেমন সাজ পছন্দ? একবাক্যে উত্তর, "ট্রাডিশনাল। ছোট থেকে আজ পর্যন্ত আমি পুজোয় ট্রাডিশনাল সাজটাই পছন্দ করি। বিশেষ করে শাড়ি। এখন মলকটন পরতে ভালোবাসি। একটা সুন্দর ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ি পরে নিলেই স্টাইল হয়ে যায়। একটা দিকে খেয়াল রাখি, সাজটা যেন কমফোর্টেবল হয়। আমার কাছে তো এখন পুজো মানেই কটন শাড়ি। নবমীতে একটু ডার্ক শেড বা কালো রঙের শাড়ি। বাকি দিনগুলোতে লাইট শেড।"
পুজোর সময় খাওয়াদাওয়া ডায়েট চার্জ মেনেই নাকি কিছুটা ছাড়? এই প্রশ্ন শুনেই মানসীর সপাট জবাব, "পুজোর সময় ডায়েটের কথা উচ্চারণ করাই পাপ। কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া হবে। পুজোর বেশ কয়েকদিন বাকি থাকতেই ডায়েট ভুলে যাই।"কর্মব্যস্ত জীবনে পুজোয় আনন্দ করতে গিয়ে ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে?
নস্ট্যালজিয়ায় ভেসে বলেন, "সেই সময় পুজো মানেই আমাদের বাড়িতে পিসির মেয়ে আসত। একসঙ্গে দারুণ সময় কাটাতাম। আমরা জামা এক্সচেঞ্জ করে পরতাম। ওই দিনগুলো খুবই আনন্দের ছিল। পুজোয় স্কুলে ছুটি পড়লেই আমাদের বাড়িতে চলে আসত, তারপর আমাদের সময়টা দারুণ কাটত। এটা আমার মেয়েবেলার পুজোর নস্ট্যালজিয়া।" আর ছোটবেলার পুজো প্রেম?
প্রথমে খানিক হাসি, তারপর বলেন, "না সেটা কখনও হয়নি। তখন তো বাড়ির বড়দের সঙ্গেই বেরতাম। সকলে মিলে অঞ্জলি দিতাম। তাই ওটা আর হয়নি। তবে প্রেমে পড়ার পর পুজোগুলো আমার কাছে খুব স্পেশাল হয়ে উঠেছিল। ছোট থেকেই পুজোর সময় ছোটবেলাতেও বাইরে ঘুরতে যাওয়া হত। তাই দশমীর বিসর্জনও সেভাবে কখনও দেখা হত না। বাড়িতে কালী পুজো যখন শুরু হল তখন বিসর্জনের আনন্দটা উপভোগ করতে পারলাম।"
এখন তো থিম পুজোর বাড়বাড়ন্ত। সাবেকিয়ানাকে টেক্কা দিতে পারে বলে মনে হয়? মানসীর মতে, "কখনওই না। আমি নিজেও থিম পুজো ভালোবাসি না। ডাকের সাজের সৌন্দর্য জাস্ট অতুলনীয়। সাবেকিয়ানাকে কোনওদিন থিম পুজো টেক্কা দিতে পারবে না।"