তিন মাসে কমিয়েছেন ১৫ কেজি ওজন! পুজোর চারদিন সৃজিতের ডায়েট প্ল্যান কী?
Pritimoy Roy Burman
পুজো মানেই শুধু নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখা আর রাত জেগে শহর ঘোরা নয়। পুজোর চারদিন বাঙালির কাছে উৎসবটা যেন খানিকটা রসনারও। বাড়ির রান্না থেকে প্যান্ডেলের পাশের ফুচকা, রোল, চাউমিন, আবার কোনও দিন পছন্দের লুচি-মাংস। চারদিনের জন্য ডায়েটের হিসেব একটু এদিক-ওদিক হলে ক্ষতি কী! পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পুজোর খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনাতেও (Durga Puja Diet Plan) সেই চেনা বাঙালি উৎসবের ছবিই ধরা পড়ল।
এমনিতে এখন বেশ নিয়ম মেনে চলছেন সৃজিত (Srijit Mukherji)। গত তিন মাসে ১৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন। ফলে খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকতেই হচ্ছে। কিন্তু পুজো যে অন্যরকম! সারা বছর ধরে অপেক্ষা করা এই চারটে দিন ডায়েটের কড়াকড়িতে কাটানোর ইচ্ছে নেই তাঁর। বরং পুজোর ক’টা দিন পছন্দের খাবার সামনে এলে মন খুলেই খেতে চান।
আরও পড়ুন:
নিজের পুজোর রসনা নিয়ে সৃজিতের কথায়, "কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া। এমনিতে এখন একটু ডায়েট করছি। শেষ তিন মাসে ১৫ কেজি ওজন কমিয়েছি। সেখানেও হয়তো পুজোর চারটে দিন সেটা বাদ থাকবে।"
আর সেই ‘কবজি ডুবিয়ে’ খাওয়ার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে লুচি-মাংস। গরম গরম ফুলকো লুচি আর পাঁঠার মাংস, পুজোর দুপুরে এর চেয়ে বেশি বাঙালির আর কী-ই বা চাই! সৃজিতেরও বিশেষ পছন্দ এই জুটি। পুজোর চারদিনের মেনুতে তাই লুচি-মাংসের জায়গা পাকা।
তবে পুজোর খাওয়াদাওয়া শুধু বাড়ির টেবিলেই আটকে থাকবে না। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে শহরের অলিগলি, প্যান্ডেলের আশপাশের খাবারের দোকান, রাতের কলকাতার চেনা স্ট্রিট ফুডও টানবে তাঁকে। এগরোল, এগ-মটন রোল বা এক প্লেট চাউমিন, প্যান্ডেল হপিংয়ের ফাঁকে এমন খাবারও বাদ যাচ্ছে না।
চাইনিজ খাবারের প্রতিও সৃজিতের আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। পুজোর মেনুতে তাই জায়গা করে নিতে পারে ফ্রায়েড রাইস এবং মোমো। অর্থাৎ একদিকে লুচি-পাঁঠার মাংসের বাঙালি স্বাদ, অন্যদিকে রোল, চাউমিন আর চাইনিজ খাবার। পুজোর চারদিনে রসনার সফরটা বেশ বৈচিত্র্যময়ই হতে চলেছে।
আর আমিষ-নিরামিষের প্রশ্ন? সেখানেও কোনও দ্বিধা নেই সৃজিতের। আমিষ-নিরামিষের এই দ্বন্দ্ব তাঁর কাছে তেমন কোনও বিষয় নয়। বরং তাঁর মতে, পুজোর সঙ্গে আমিষ খাবারের একটা পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। বাঙালির পুজোর খাওয়াদাওয়ার ইতিহাসে সেই স্বাদ বহুদিনের। তাই পুজো যেমন হয়ে এসেছে, তেমনই হোক খাওয়াদাওয়াও।