কুমোরটুলি টু ক্যারোলিনা, 'আলাপনে'র দুর্গাপুজো ঘিরে আমেরিকায় বাংলার মাটির গন্ধ
Sucheta Sengupta
কথায় আছে, বাঙালি যেখানেই থাকুক, আশপাশে ঠিক বাংলার পরিবেশ তৈরি করে। সে হংকং হোক কিংবা হনলুলু - সর্বত্র বাঙালির বিচরণ চলে একেবারে দাপটের সঙ্গে। সেই সূত্রেই ধূ ধূ মরুভূমি হোক কিংবা তুষারাবৃত মেরুদেশ, শরৎ আসেই। সঙ্গে আসেন মা দু্র্গা। 'আশ্বিণের শারদ প্রাতে' ঠিক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গমগমে গলায় বেজে ওঠে মহালয়া। সপ্তমী থেকে দশমী, মহানন্দে দুর্গাপুজো করেন প্রবাসী বাঙালিরা। আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনার 'আলাপন'ও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনবছর ধরে তাদের উদ্যোগে ট্রাম্পের দেশে পূজিত হচ্ছে উমা। একটুকরো বাংলার আবহ উপভোগ করেন সকলে। তবে এবছর 'আলাপনে'র বিশেষ আকর্ষণ খোদ কুমোরটুলি থেকে আনা দেবী দুর্গা। রয়েছে আরও ঢের আয়োজন।
এই বছর 'আলাপনে'র তৃতীয় বর্ষের দুর্গাপুজো। এবারই প্রথম কলকাতার কুমোরটুলি থেকে দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে সাউথ ক্যারোলিনায়! ফলে আনন্দ আর আকর্ষণ যেন তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে। টিম 'আলাপন' মনে করছে, এবছরের পুজো তাদের কাছে শুধুমাত্র সমুদ্র পেরিয়ে দুর্গাপ্রতিমার যাত্রা নয়। বরং কুমোরটুলি থেকে ক্যারোলিনা, বাংলা থেকে আমেরিকা এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের শিকড়ের কাছে ফিরে আসার এক আবেগময় যাত্রা।
হাতে একমাসেরও কম সময়। তাই বাংলার মতো তোড়জোড় না হলেও ঢিমে তালে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সাউথ ক্যারোলিনার টিম 'আলাপন'। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর নিষ্ঠা, আনন্দ ও আবেগের সঙ্গে দুর্গাপুজো করে থাকেন। যা আমেরিকার মাটিতে বয়ে আনে বাংলার ঐতিহ্য, স্মৃতি, সংস্কৃতি আর শারদোৎসবের চিরপরিচিত আবহ। এরপরই সবচেয়ে বড় চমকের খবরটি জানিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
এই বছর 'আলাপনে'র তৃতীয় বর্ষের দুর্গাপুজো। এবারই প্রথম কলকাতার কুমোরটুলি থেকে দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে সাউথ ক্যারোলিনায়! ফলে আনন্দ আর আকর্ষণ যেন তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে। টিম 'আলাপন' মনে করছে, এবছরের পুজো তাদের কাছে শুধুমাত্র সমুদ্র পেরিয়ে দুর্গাপ্রতিমার যাত্রা নয়। বরং কুমোরটুলি থেকে ক্যারোলিনা, বাংলা থেকে আমেরিকা এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের শিকড়ের কাছে ফিরে আসার এক আবেগময় যাত্রা।
এ তো গেল আলাপনের দশভুজার আয়োজন। পুজো প্রক্রিয়ায় আর যে যে আচার-অনুষ্ঠানে সাউথ ক্যারোলিনার এই দুর্গোৎসবকে সকলের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে, তার মধ্যে অন্যতম, নারী পুরোহিতের নেতৃত্বে পুজো। 'আলাপনে'র দুর্গাপুজো সম্পন্ন হয় একজন নারী পুরোহিতের পৌরোহিত্যে, যা ভারতের বাইরের দুর্গাপুজোর পরিসরে এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল। দুর্গাপুজোর আয়োজন ও পরিচালনায় রয়েছে একদল নারী স্বেচ্ছাসেবক। পুজোর আচার-অনুষ্ঠান থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সামগ্রিকভাবে সকলকে এক ছাদের নিয়ে নিয়ে আসা - প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁরা একসঙ্গে কাজ করে চলেছেন।
প্রতি বছর সাউথ ক্যারোলিনার এই দুর্গাপুজোর মণ্ডপসজ্জায় ফুটে ওঠে বাংলার সমৃদ্ধ দৃশ্যশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বাংলার গ্রাম, লোকশিল্প ও লোকপরম্পরা থেকে শুরু করে আধুনিক বাঙালি শহরের পরিবর্তিত সাংস্কৃতিক রূপ - এসহ উপাদান ব্যবহার করে মণ্ডপসজ্জা ও শিল্পের মাধ্যমে নতুন করে তুলে ধরা হয়।
ভিনদেশে নিজেদের মতো করে বাংলা সংস্কৃতির শিকড়ে দাঁড়িয়েও 'আলাপন' সবার জন্য উন্মুক্ত। বাঙালি ও অবাঙালি পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মানুষজন তাদের দুর্গোৎসবে অংশগ্রহণ করেন। শুধু নিজেদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখা নয়, বরং সেই ঐতিহ্যের আনন্দ ও সৌন্দর্যকে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই লক্ষ্য 'আলাপন' সদস্যদের।
প্রতি বছর সাউথ ক্যারোলিনার এই দুর্গাপুজোর মণ্ডপসজ্জায় ফুটে ওঠে বাংলার সমৃদ্ধ দৃশ্যশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বাংলার গ্রাম, লোকশিল্প ও লোকপরম্পরা থেকে শুরু করে আধুনিক বাঙালি শহরের পরিবর্তিত সাংস্কৃতিক রূপ - এসহ উপাদান ব্যবহার করে মণ্ডপসজ্জা ও শিল্পের মাধ্যমে নতুন করে তুলে ধরা হয়। এভাবেই আসলে বছরের কয়েকটা দিন বাংলার হৃদস্পন্দনের ছন্দে আলোড়িত হন সাউথ ক্যারোলিনার বাঙালি। ভৌগলিক দূরত্ব পেরিয়ে এক বিন্দুতে যেন এসে দাঁড়ান বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তের উৎসবপ্রেমী মানুষজন।