দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Durga Puja

কেবল শ্রীরামচন্দ্র নন, দেবী দুর্গার কৃপাতেই কৌরব বধ করেছিলেন পঞ্চপাণ্ডব

সনাতন ধর্মীয় চেতনায় দেবী মহিষমর্দিনীর কৃপাধন্য কেবল রামায়ণেই সীমাবদ্ধ নয়। অপর মহাকাব্য মহাভারতেও রয়েছে দেবীর অভয় হস্তের উপস্থিতি।
Buddhadeb Halder
06:20 PM Sep 25, 2026 IST
সনাতন ধর্মীয় চেতনায় দেবী মহিষমর্দিনীর কৃপাধন্য কেবল রামায়ণেই সীমাবদ্ধ নয়। অপর মহাকাব্য মহাভারতেও রয়েছে দেবীর অভয় হস্তের উপস্থিতি।
মহাভারতেও বারবার এসেছে দুর্গা আরাধনার প্রসঙ্গ।

বাঙালির দুর্গোৎসবের সঙ্গে রামচন্দ্রের অকালবোধনের গল্পটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে। ফুলিয়ার কৃত্তিবাস ওঝার ‘শ্রীরাম পাঁচালী’র দৌলতে আমরা সবাই জানি, লঙ্কাজয়ের জন্য দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। কিন্তু সনাতন ধর্মীয় চেতনায় দেবী মহিষমর্দিনীর কৃপাধন্য কেবল রামায়ণেই সীমাবদ্ধ নয়। অপর মহাকাব্য মহাভারতেও রয়েছে দেবীর অভয় হস্তের উপস্থিতি। ‘যা নেই ভারতে, তা নেই ভারতে’— এই আপ্তবাক্যকে সত্য প্রমাণ করেই মহাভারতের সংকট মুহূর্তেও আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী দুর্গা।

ফাইল ছবি

মহাভারতের বিরাট পর্বে পঞ্চপাণ্ডবের অজ্ঞাতবাসের এক চরম সংকটময় মুহূর্তের উল্লেখ মেলে। পাশা খেলায় হেরে ১২ বছরের বনবাস শেষে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদী বিরাটনগরে অজ্ঞাতবাস বেছে নেন। শর্ত ছিল, এই এক বছরে পরিচয় প্রকাশ পেলেই ফের ১২ বছরের জন্য বনবাসে যেতে হবে। এই ঘোর সংকটকালে মুনি-ঋষিদের পরামর্শে দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হন জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

কেবল যুধিষ্ঠিরই নন, ভীষ্ম পর্বেও দেবী আরাধনার উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কুরুক্ষেত্রের মহারণে অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের যুদ্ধে যখন অর্জুন বিষাদগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত, তখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে শক্তি আরাধনার পথ দেখান। দুর্যোধনের বিশাল বাহিনী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য অর্জুনকে দুর্গা স্তোত্র পাঠের উপদেশ দেন মধুসূদন।

তিনি দেবীর স্তবে উচ্চারণ করেন, ‘দুর্গাৎ তারয়সে দুর্গে তৎ ত্বং দুর্গা স্মৃতা, জনৈ।’ অর্থাৎ, যিনি সর্বপ্রকার দুর্গতি বা সংকট থেকে উদ্ধার করেন, তিনিই দুর্গা। যুধিষ্ঠিরের আরাধ্যা দেবী ছিলেন অতসী বর্ণা, চতুর্ভুজা, চতুর্বক্তা এবং সিংহবাহিনী। পাণ্ডব জ্যেষ্ঠের ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে দুর্গতিনাশিনী বর দেন, কৌরবদের পরাস্ত করে তাঁরা রাজত্ব ফিরে পাবেন। দেবী আশ্বাস দেন, তাঁর নাম স্মরণ করলে কোনও দুর্লভ বস্তুই অপ্রাপ্য থাকে না।

কেবল যুধিষ্ঠিরই নন, ভীষ্ম পর্বেও দেবী আরাধনার উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কুরুক্ষেত্রের মহারণে অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের যুদ্ধে যখন অর্জুন বিষাদগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত, তখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে শক্তি আরাধনার পথ দেখান। দুর্যোধনের বিশাল বাহিনী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য অর্জুনকে দুর্গা স্তোত্র পাঠের উপদেশ দেন মধুসূদন।

ফাইল ছবি।

কৃষ্ণের নির্দেশে সব্যসাচী অর্জুন দেবীর স্তব শুরু করেন। প্রসন্ন হয়ে দেবী ভক্তকে জয়ী হওয়ার অমোঘ বর দান করেন। কুরুক্ষেত্রের মহাসংগ্রামে পাণ্ডবদের এই অলৌকিক বিজয় আদতে দেবী শক্তিরই বরদান।

রামায়ণ ও মহাভারত— দুই ভারতীয় মহাকাব্যের মূল সুর কিন্তু এক। তা হল, সনাতন ধর্ম তথা ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত। অন্যায়কে দমন করে ধর্ম প্রতিষ্ঠার এই পবিত্র যাত্রায় শ্রীরামচন্দ্র ও অর্জুন— দুই নায়কই দেবী দুর্গার চরণে আত্মনিবেদন করেছিলেন। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের এই পৌরাণিক সমাপতন প্রমাণ করে, যুগ যুগ ধরে মহাকাব্যের পাতায় কীভাবে শাশ্বত শক্তির প্রতীক হয়ে রয়েছেন দেবী দুর্গা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Durga Puja 2026MahabharataRamayana
Advertisement
Tags :
Durga Puja 2026MahabharataRamayana

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন