আদিশক্তির অপর নাম 'দুর্গা', জানেন আসল অর্থ? নেপথ্যে লুকিয়ে কোন মাহাত্ম্য
কখনও আমরা ভেবে দেখেছি কি দেবীর নাম 'দুর্গা' হল কেন?
Buddhadeb Halder
05:25 PM Sep 23, 2026 IST
-
-
বাঙালির শরৎকালীন আরাধনায় যিনি পূজিতা, তিনি মূলত মহিষাসুরমর্দিনী চণ্ডী। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বিখ্যাত স্তোত্রপাঠে ‘নমশ্চণ্ডিকায়ৈ’ মন্ত্রে সেই মহামায়ারই আবাহন ঘটে। তবে শ্রীশ্রীচণ্ডীর সাতশো শ্লোক সম্বলিত ‘দেবীমাহাত্ম্য’ গ্রন্থটি কালক্রমে ‘দুর্গাসপ্তশতী’ নামে প্রসিদ্ধ লাভ করে। এইভাবেই মহিষাসুরমর্দিনী রূপটির সঙ্গে দুর্গা নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে।
-
পুরাণমতে, মহিষাসুরমর্দিনী ও দুর্গমাসুরনাশিনী দেবীর আবির্ভাবের কাল ও উদ্দেশ্য আলাদা। স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে হিমালয় অঞ্চলে মহিষাসুর বধের জন্য মহিষাসুরমর্দিনীর আবির্ভাব হয়। অপরদিকে, বৈবস্বত মন্বন্তরে বিন্ধ্য পর্বতে দুর্গমাসুর হরণের জন্য অবতীর্ণ হন দুর্গা। এই রূপের সঙ্গে শাকম্ভরী ও শতাক্ষী দেবীর মহিমান্বিত লীলাও গভীরভাবে যুক্ত।
-
মানবজাতি সর্বদাই সব সংকট ও ভয় থেকে মুক্তি কামনা করে। এই আকুল প্রার্থনা থেকেই ‘দুর্গা’ নামের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। ‘দুর্গ’ শব্দের আদি অর্থ হল গভীর বিপদ বা দুর্গম পরিস্থিতি। যিনি সেই মহাবিঘ্ন থেকে ভক্তকে পরম যত্নে ত্রাণ করেন, তিনিই জগজ্জননী দুর্গা।
-
প্রাচীন অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’ অনুযায়ী, দুর্গা নামের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এখানে ‘দুর্গ’ শব্দের অর্থ শুধু অসুর নয়, বরং তা কুকর্ম, দুঃখ, নরক ও সাংসারিক বাঁধনকেও নির্দেশ করে। দেবীর কাজই হল জীবের অন্তরের ও বাইরের এসব পাপ এবং অশান্তি সম্পূর্ণ বিনাশ করা।
-
শাস্ত্রীয় শব্দ বিশ্লেষণে দুর্গা নামের প্রতিটি অক্ষরের পৃথক ব্যঞ্জনা রয়েছে। ‘দ’ বর্ণে দৈত্য নাশ, ‘উ’ বর্ণে বিঘ্ন বিনাশ, ‘র’ বর্ণে রোগ দূরীকরণ এবং ‘গ’ বর্ণে পাপ ক্ষয় নির্দেশিত। শেষে ‘আ’ কার যুক্ত হয়ে দেবীর সর্বভয় ও শত্রু সংহারকারী শক্তিরূপকে পূর্ণাঙ্গতা দেয়।
-
মার্কণ্ডেয় চণ্ডীতে সুরগণ দেবী দুর্গাকে সংসার-সমুদ্র পার করার সুদৃঢ় তরণী হিসেবে স্তব করেছেন। তাঁকে স্মরণের সঙ্গেই সর্বভূতের অন্তরের ভয় ও শঙ্কা দূরীভূত হয়। মহাভয়, ব্যাধি, শোক ও পুনর্জন্মের ভীতি বিনাশ করে জীবের পরম গতি প্রদান করাই দেবীর মূল স্বধর্ম।
-
মহাভারতে অজ্ঞাতবাসের পূর্বে পাণ্ডবশ্রেষ্ঠ যুধিষ্ঠির দেবীর দুর্গা রূপেরই স্তুতি করেছিলেন। বনপথে দিশাহারা, মহাসমুদ্রে বিপন্ন কিংবা দস্যুকবলে বন্দি ব্যক্তি দুর্গানাম জপেই মুক্তি পায়। একই বার্তা পাই ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও— তিনি দুর্গতিনাশিনী, তাঁর শুভ নাম স্মরণে জীবের সর্বদুর্গতি খণ্ডন হয়।
Advertisement
Advertisement