পুজোয় এবার নাট্যোৎসব, নেই নট-নটী! কলকাতার এই মণ্ডপে কুশীলব আপনারাই
Biswadip Dey
ধরা যাক, আপনি একটা মঞ্চে প্রবেশ করেছেন। লেখাও রয়েছে ‘শারদ নাট্যোৎসব ২০২৬'। রয়েছে নাটকের অসংখ্য পোস্টার। কিন্তু নট-নটীরাই যে কেউ নেই! আসলে কুশীলবদের একজন আপনিই! আর ওই মঞ্চের একটা উইং দিয়ে আপনি ঢুকে পড়বেন মূল মঞ্চে। যেখানে সপরিবারে বিরাজ করছেন দশপ্রহরণধারিণী। এবার কলকাতায় এমনই এক পুজোর সাক্ষী হতে চলেছে শহরবাসী। প্রতাপাদিত্য রোড ত্রিকোণ পার্ক বারোয়ারি দুর্গাপুজো কমিটির ৯৭তম বছরের নিবেদন ‘শারদ নাট্যোৎসব ২০২৬'।
গতবার ‘সংবাদ প্রতিদিন'-এর ‘পুজো পারফেক্ট'-সহ অনেক পুরস্কার পেয়েছে এই পুজো। তবে এবার পালাবদলের বঙ্গে কমিটি বদলে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে কাজ শুরু হয়েছে। যদিও শেষ বেলায় কাজ চলছে পুরোদমে। অভিনব এই মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে বিমল সামন্তের নির্দেশনায়।
আরও পড়ুন:
আলোকসজ্জার মধ্যে দিয়ে নাটকের পরিবেশ আরও জীবন্ত করে তুলবেন আলোকশিল্পী প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আশু চক্রবর্তীর আবহে আপনার নিজেকে এই নাটকেরই অংশ বলে মনে হবে। প্রতিমা গড়ছেন অমল পাল।
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে বিমল সামন্ত বলেন, ''আপনার মনে হবে আপনি একটা নাট্যমঞ্চে প্রবেশ করেছেন। চারপাশে যেন একটা নাট্যোৎসবের মুড। এমনকী, দশটি নাটকের পোস্টারও থাকবে। মুখোশ, বেলুন, পতাকা, চরকা এসব তো থাকবেই। অথচ দেখা মিলবে না কোনও নাট্যাভিনেতা, নাট্যাভিনেত্রীর। দর্শকরা স্টেজেরই একটা উইং দিয়ে মূল মঞ্চে ঢুকে যাবে।''
কী ধরনের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে? শিল্পীর কথায়, ''ধরুন আপনি দেখলেন একটা কল খোলা আছে। জল পড়লেও বালতিটা ভরছে না! আবার একটা ঘরের ভিতরে আলো জ্বলছে। বনবন করে ফ্যান চলছে, লাইট জ্বলছে। পাখার হাওয়ায় উড়ছে ক্যালেন্ডার। কিন্তু সেখানে কেউ ঢুকছে না, বেরচ্ছেও না। আবার একটা টেবিল। যার উপরে রাখা বইয়ের পাতা খোলা। খোলা চশমা। চায়ের কাপ রাখা। টেবিলে কেউ নেই তবু! একটা পোডিয়ামে লেখা যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য ছাড়া মিথ্যা শুনো না। কিন্তু সেখানে বক্তা কেউ নেই। এমনই সব নানা মুহূর্ত যেন জমে রয়েছে সেখানে।'' আলোকসজ্জার মধ্যে দিয়ে নাটকের পরিবেশ আরও জীবন্ত করে তুলবেন আলোকশিল্পী প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। অংশু চক্রবর্তীর আবহে আপনার নিজেকে এই নাটকেরই অংশ বলে মনে হবে। প্রতিমা গড়ছেন অমল পাল।
এমন অভিনব পরিকল্পনাতেই শারদোৎসবে পুজোপ্রেমীদের নাট্যোৎসব উপহার দিতে চলেছেন শিল্পী। প্রতাপাদিত্য রোড ত্রিকোণ পার্কের এই পুজো নিঃসন্দেহে দর্শনার্থীদের এক অভিনব অভিজ্ঞতার শরিক করে তুলবে। নাট্যমঞ্চের সঙ্গে মিলে যাবে দুর্গাপুজোর আনন্দের রেশ।