কোথাও পোড়া মাছ, কোথাও নিরামিষ, কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর ভোগেও নানা চমক
চলুন জেনে নেওয়া শহরের কোন বনেদি বাড়িতে ভোগ হিসাবে দেবীকে কী নিবেদন করা হয়।
Sayani Sen
08:44 PM Sep 24, 2026 IST
-
-
১৬১০ খ্রিস্টাব্দ, কলকাতার বুকে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হল বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের বাড়িতে। আটচালার দুর্গাপুজোর বোধন হয় কৃষ্ণানবমী তিথিতে। একসময় পুজোয় ১৩টি পাঁঠা, একটি মোষ, আখ আর চালকুমড়ো বলির রীতি ছিল। এখন মোষবলি বন্ধ। এই বাড়িতে মা’কে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। ফল, মিষ্টি, লুচি, তরকারি, খিচুড়ি, ভাত, পোলাওয়ের সঙ্গে ল্যাটা মাছ পোড়া দেওয়া হয়। দশমীর দিন দেওয়া হয় পান্তাভাত, কচুশাক।
-
শোভাবাজার রাজবাড়িতে ১৭৯০ সালে দুর্গাপুজোর সূচনা। এখানে অন্নভোগ দেওয়ার রীতি নেই। বাড়িতে তৈরি নানা মিষ্টি দেওয়া হয়। গজা, চৌকো গজা, জিভে গজা, পান্তুয়া, খাস্তা কচুরি, সিঙারা, জিলিপি, নিমকি, রাধাবল্লভী ভোগ দেওয়া হয় দেবীকে। বংশ পরম্পরায় পুজোর সময় রাজবাড়িতে মিষ্টি তৈরি করছেন প্রস্তুতকারকরা।
-
ছাতুবাবু ও লাটবাবুর পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে নানা কাহিনি। ১৭৮০ সালে ঈশ্বর রাম দুলাল দে এই পুজো শুরু করেন। মৃত্যুর পর দুই ছেলে আশুতোষ ওরফে ছাতুবাবু এবং প্রমথ ওরফে লাটুবাবুর আমলে পুজোর রমরমা। ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয় ঘিয়ে ভাজা লুচি। সঙ্গে ছানা, ধোঁকা, স্টাফ ক্যাপশিয়াম, ফুলকপির তরকারি। মায়ের ভোগে নুন দেওয়ার চল নেই। নৈবেদ্যতে থাকে চাল, ফল, মিষ্টি ও দই।
-
অব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব পরিবার হওয়ায় জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়িতে পশুবলির চল নেই। অন্নভোগও দেওয়া হয় না। নৈবেদ্য হিসাবে চাল, ডাল, নানারকমের ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। এছাড়া লুচি, গজা, খাজা, দই, নাড়ু, মুড়কি মাকে দেওয়া হয়। সঙ্গে চন্দ্রপুলি, নানারকমের ক্ষীরের মিষ্টি, রাবড়িও থাকে।
-
কথিত আছে, জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়িতে এসে মা নাকি গয়না পরেন। আর কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্র বাড়িতে ভোজন করেন। আর নাচ দেখেন শোভাবাজার রাজবাড়িতে। শতাব্দী প্রাচীন এই বাড়ির ভোগে রোদে শুকনো মুগডাল দিয়ে খিচুড়ি তৈরি করা হয়। সঙ্গে নানা ভাজা সবজি, তরতকারি এবং খাঁটি মাখনের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। এছাড়া নানারকমের মিষ্টি, লুচি তো রয়েছে।
-
উত্তর কলকাতার চোরবাগান শীল বাড়ির দুর্গাপুজোয় বৈষ্ণব মতে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত এখানে লুচি, বিভিন্ন ধরনের ফল এবং মিষ্টি দেওয়া হয়। এছাড়া এখানে নিরামিষ শুক্তোতে পাটপাতা ব্যবহারের প্রাচীন রীতিও রয়েছে।
-
বারোয়ারি হোক কিংবা বনেদি বাড়ি আপাতত সর্বত্রই জোরকদমে চলছে পুজো প্রস্তুতি। পুজোর আনন্দে গা ভাসাতে আপনিও তৈরি তো?
Advertisement
Advertisement