পোস্টারে শিল্পীকে 'অপমান', বিতর্কে সনাতন দিন্দার পুজো, কী জানালেন উদ্যোক্তারা?
Sayani Sen
পুজোর কলকাতায় সনাতন দিন্দা কোন চমক দিতে চলেছেন, সেদিকে নজর থাকে পুজোপ্রেমীদের। অথচ তাঁর পুজো ঘিরেই এবার দানা বাঁধল বিতর্ক। বেহালা ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পুজোর পোস্টারে প্রয়াত বিশ্ববরেণ্য তবলা বাদক ওস্তাদ জাকির হোসেনকে অপমান করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে পালটা বিবৃতি জারি ক্লাব কর্তৃপক্ষের।
এবার ৭৭ তম বর্ষে পা দিয়েছে বেহালা ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশন। এবার তাঁদের থিম ছুটি। অতীতের সঙ্গে এআইয়ের যুগে শৈশবের ঠিক কতটা ফারাক তাই তুলে ধরা হবে থিমে। একটা সময় কচিকাঁচারা মেঘ দেখেও কল্পনার জগতে ভেসে বেড়াত। বর্তমানে তাদের সেসব ভাবনাচিন্তা যেন হারাতে বসেছে। মণ্ডপে এসে সেসব ভাবনার জগতেই বিচরণ করতে পারবে খুদেরা। মা-কে ছুঁয়ে দেখার মতো আনন্দও অনুভূত হবে এখানে। থিমসজ্জা এবং প্রতিমা দু'য়ের গুরুদায়িত্ব শিল্পী সনাতন দিন্দার কাঁধে।
আরও পড়ুন:
ওই পুজোর বেশ কয়েকটি পোস্টার ভাইরাল হয়েছে। যার একটি নিয়ে যত বিতর্কের সূত্রপাত। একটি পোস্টারে তবলার ছবি দিয়ে 'ফাঁকির হোসেন' লেখা ছিল। নেটিজেনদের দাবি, এই পোস্টারের মাধ্যমে প্রয়াত প্রবাদপ্রতীম তবলা বাদক জাকির হোসেনকেই নাকি অপমান করা হয়েছে। কীভাবে একজন শিল্পী আরেকজনকে অপমান করতে পারলেন, সে প্রশ্ন করেছেন কেউ কেউ। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন নেটিজেনরা।
চাপের মুখে অবশেষে পালটা বিবৃতি জারি করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, 'আমরা শুধুমাত্র আমাদের এ বছরের বিষয় ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুসুলভ উপস্থাপনা সবার সামনে তুলে ধরেছিলাম কৌতূহল তৈরির উদ্দেশে। সেক্ষেত্রে কোনও প্রবাদপ্রতীম ব্যক্তিত্বকে ছোট করা বা কটাক্ষ করার কোনও অভিব্যক্তি আমাদের ছিল না। সেই কারণেই যদি কোনও কলাকুশলী বা ব্যক্তিবর্গকে এই বিষয়টি কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে আমরা নির্দ্বিধায় ক্ষমাপ্রার্থী।'
শিল্পী সনাতন দিন্দার মতও একইরকম। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে তিনি জানিয়েছেন, পুজোর থিম এবং প্রতিমার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তিনি তাঁর ভাবনাচিন্তায় প্রতিমা এবং মণ্ডপসজ্জার কাজ করছেন। তবে পোস্টার তৈরির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। এই পোস্টার তৈরির সঙ্গে শিল্পী সনাতন দিন্দা কোনওভাবেই জড়িত নন বলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।