দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Durga Puja 2026

পুজোতেই শিল্পকে সর্বজনীন করার স্বপ্ন দেখতেন, সেই খ্যাতনামা শিল্পী 'শানু লাহিড়ী' থিমে সাজছে শহরের এই মণ্ডপ

শিল্পকে কখনও চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখতে চাননি শানু লাহিড়ী। চেয়েছেন সাধারণ মানুষও শিল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করুক।
Utsa Tarafdar
06:44 PM Sep 12, 2026 IST
শিল্পকে কখনও চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখতে চাননি শানু লাহিড়ী। চেয়েছেন সাধারণ মানুষও শিল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করুক।
১৯৮২ ও ১৯৯৬ সালে নিজ উদ্যোগে দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছিলেন শানু লাহিড়ী।

দুর্গাপুজো যে অনন্ত সম্ভাবনাময়, তা হয়ে উঠতে পারে শিল্পীর কর্মসংস্থানও, তা বুঝেছিলেন শিল্পী শানু লাহিড়ী। কিন্তু শিল্পীকে বুঝেছিলেন ক'জন? কতজন মনে রেখেছেন তাঁকে? আর এক বছর পেরোলেই পূর্ণ হবে তাঁর জন্মের শতবর্ষ। তাই এবার ভবানীপুরের অবসর সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমা ও মণ্ডপ সেজে উঠবে শানু লাহিড়ীর শিল্পচর্চার অনুপ্রেরণাতেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-কে 'কোলাবরেটিভ আর্ট প্র্যাকটিশনার থিঙ্কার্স'-এর সদস্য শুভ্রদীপ পাল জানান, ‘‘এ বছর অবসর সর্বজনীনে কাজের দায়িত্ব পেয়েছি আমরা। ঠিক করি, একজন এমন চিত্রশিল্পী বা ভাস্করকে ট্রিবিউট দেওয়া হোক, যাঁর জন্ম ও কর্মজীবন ভবানীপুর অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত। তখনই মাথায় আসে শানু লাহিড়ীর নাম।’’

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

দেওয়ালে ম্যুরাল আঁকছেন শিল্পী।

তাঁকে ট্রিবিউট দিতে তাঁরই বই ‘জীবন যেখানে যৌবন’-এর আধারে ‘অন্য যেখানে অনন্য’ নাম দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের অবসর সর্বজনীনের থিমটির (Durga Puja 2026)। শিল্পী শানু লাহিড়ীর ব্যক্তিজীবন, শিল্পশৈলী, মিউরাল আর্ট ও দুর্গা পুজোয় অবদানকে কেন্দ্র করেই সেজে উঠবে পুজোমণ্ডপ। মণ্ডপসজ্জায় ঠিক কোন কোন মাধ্যম ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়টি দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে রাখা হলেও, মণ্ডপে পা রাখামাত্রই যে বিস্মৃত শিল্পী শানু লাহিড়ীর কর্ম ও শিল্পজীবনের সাক্ষী হতে পারবেন দর্শকরা, সে কথা জানিয়েছেন শুভ্রদীপ পাল।

শানু লাহিড়ীর জন্ম হয়েছিল ভবানীপুর থানার পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায়। সে সময়ের হাতে গোনা যে ক'জন মহিলা গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে পড়তে যেতেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। শিল্পসাহিত্যের পরিমণ্ডলেই শিল্পীর বেড়ে ওঠা। কর্মজীবনে একের পর এক সাফল্য এসেছে। রবীন্দ্রভারতীতে শিল্প বিভাগের হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বও সামলেছেন একসময়।

শিল্পকে কখনও চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখতে চাননি শানু লাহিড়ী। চেয়েছেন সাধারণ মানুষও শিল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করুক। এ সময়েই যে বিষয়টি তাঁকে সবথেকে ভাবিয়েছিল, তা হল আর্ট কলেজের পড়ুয়াদের কর্মসংস্থান। কেবল মিন্টো পার্ক কিংবা গাজা পার্কের ফিলিপসের ফাঁকা দেওয়াল নয়, রবীন্দ্র সদন সাফারি পার্কের পথে পড়ে থাকা রোড রোলারও হয়ে উঠেছে তাঁর ম্যুরাল আঁকার ক্যানভাস। এমনকী কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ল্যান্ডমার্ক ‘পরমা’-র মূর্তিটি গড়েছিলেন তিনিই।

দুর্গাপুজোর মধ্যে যে সাধারণ শিল্পীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে, তা শানু বুঝতে পেরেছিলেন আজ থেকে ২৮-২৯ বছর আগেই। ১৯৮২ ও ১৯৯৬ সালে তিনি নিজউদ্যোগে দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছিলেন বকুলবাগান সর্বজনীন ক্লাবে। এই বছর তাঁকে নিয়ে গড়া অবসর সর্বজনীনের মণ্ডপ কতখানি চমকপ্রদ হয়, তাই দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Durga Puja 2026Kolkata Durga Puja
Advertisement
Tags :
Durga Puja 2026Kolkata Durga Puja

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন