জড়িয়ে বিদ্রোহের কাহিনি, 'তালপাতার সেপাই'য়ের হাত ধরে ছোটবেলা ফেরাবে এই পুজো
Sucheta Sengupta
সোশাল মিডিয়ায় এখন আশির ট্রেন্ড! টাইম মেশিন চড়ে যদি আশির দশকে ফিরে যাওয়া যায়, তাহলে কেমন হতো সব, এআইয়ের দৌলতে তা দেখতেই পাচ্ছেন সকলে। তবে এবারের দুর্গাপুজোয় আরও দূর অতীত দর্শন করাবে। ফিরিয়ে দেবে ছোটবেলার নস্টালজিয়া। না, কোনও প্রযুক্তি কারিকুরি কিংবা প্রচুর খরচ নয়। স্রেফ একটি সহজ-সরল উপকরণই হাতিয়ার কলকাতার নামী পুজো উদ্যোক্তাদের, যার সঙ্গে আবার জড়িয়ে সিপাই বিদ্রোহের ইতিহাস। শুনে অবাক হচ্ছেন? এটাই কিন্তু বাস্তব হতে চলেছে। আর কয়েক সপ্তাহ পরই দেখতে পাবেন এর বাস্তব রূপ।
তালপাতার সেপাই। জেন জি প্রজন্ম বাদ দিলে এটা কমবেশি সকলেরই পরিচিত এবং নিখাদ মজার বস্তু। সুতোর টানে সিপাইদের চালনা করার এই খেলায় নির্মল আনন্দ পেতাম আমরা। আজকাল আর এই খেলনা সেভাবে দেখা যায় না। বড়িশা সর্বজনীন সেই হারিয়ে যাওয়া খেলনা দিয়েই ফিরিয়ে আনছে শৈশবের সুন্দর স্মৃতি। এবছর তাদের ৭৮ তম পুজো। শিল্পী বাপাই সেনের তত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। তাঁর এহেন ভাবনার পিছনে আসলে রয়েছে ইতিহাস সচেতনতা।
আরও পড়ুন:
সেই দুর্গাদালান, সেই আটচালা নাটমন্দির, সঙ্গী আশির দশকের সেই চাহিদা বিহীন শৈশব বা কৈশোর। যখন ছোট্ট একটা তালপাতার সেপাই বা কলের পুতুল শৈশবকে ভালো রাখত, আনন্দ দিত। এই ভাবনাকে মাথায় রেখে বড়িশা সর্বজনীন এবারের পুজোকে সাজিয়ে তুলছে। শিল্পী বাপাই সেনের কথায়, ‘‘সিপাই বিদ্রোহের সময় প্রথম মদনমোহন দত্ত তালপাতার সিপাই তৈরি করেছিলেন। মনে রাখতে হবে, সেটা কিন্তু সিপাইদের ব্যঙ্গ করার জন্য তৈরি হয়েছিল। আর আমরা ছোটবেলায় সেই তালপাতার সিপাই নিয়ে খেলতাম, নির্মল আনন্দ করতাম। এবার এই উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তুলছি মণ্ডপ।'' পুজোর আরেক উদ্যোক্তা বলছেন, ‘‘আমাদের মূল থিম তালপাতার সেপাই। আট থেকে আশি - যে কোনও বয়সি মানুষ এলেই আমাদের পুজো উপভোগ করবেন। আসুন সবাই, পুজোর কটাদিন আনন্দ করুন আমাদের মণ্ডপে।'' আজকের উন্নত প্রযুক্তি, এআই, বিশাল খরচ বাদ দিয়ে ফের সহজ-সরল, আনন্দময় জীবনে ফেরার মন্ত্র দেবে বড়িশা সর্বজনীন।