দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Durga Puja

পাবনার কালীভক্ত জমিদারকে স্বপ্নাদেশ কৃষ্ণবর্ণা দেবীর! বেলেঘাটার কালো দুর্গার আশ্চর্য ইতিহাস জানেন?

'তপ্তকাঞ্চনবর্ণা' যে মা-কে দেখতে বাঙালি অভ্যস্ত, তার বাইরেও যে ভিন্ন রূপে দেবী পূজিত হন, তা জানা আছে কি? প্রচলিত গৌরবর্ণা প্রতিমার ভিড়ে বেলেঘাটার ভট্টাচার্য পরিবারের ‘কালো দুর্গা’ তেমনই এক অপার বিস্ময়!
Buddhadeb Halder
04:57 PM Sep 18, 2026 IST
'তপ্তকাঞ্চনবর্ণা' যে মা-কে দেখতে বাঙালি অভ্যস্ত, তার বাইরেও যে ভিন্ন রূপে দেবী পূজিত হন, তা জানা আছে কি? প্রচলিত গৌরবর্ণা প্রতিমার ভিড়ে বেলেঘাটার ভট্টাচার্য পরিবারের ‘কালো দুর্গা’ তেমনই এক অপার বিস্ময়!
  • হাতে আর কয়েকদিন। বছরঘুরে মা ফিরছেন। বাঙালির এই অপেক্ষা চিরকালীন। ঢাকের বাদ্যি। শরতের নীল-সাদা মেঘ। সব ছাপিয়ে দেবী দর্শনেই মনের আরাম। তবে,'তপ্তকাঞ্চনবর্ণা' যে মা-কে দেখতে বাঙালি অভ্যস্ত, তার বাইরেও যে ভিন্ন রূপে দেবী পূজিত হন, তা জানা আছে কি? প্রচলিত গৌরবর্ণা প্রতিমার ভিড়ে বেলেঘাটার ভট্টাচার্য পরিবারের ‘কালো দুর্গা’ তেমনই এক অপার বিস্ময়!

  • অধিকাংশ মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমার গাত্রবর্ণ তপ্তকাঞ্চনবর্ণা হলেও এই পরিবারে ভিন্ন রূপ দৃশ্যমান। এখানে দেবী আরাধিতা হন 'ভদ্রকালী' রূপে, যার গায়ের রং ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। তবে দেবীর চার সন্তানের গাত্রবর্ণ গৌর। মহিষাসুর এখানে উদীয়মান পাতার মতো সবুজ রঙের। কালিকা পুরাণ মেনে আয়োজিত এই পুজো দেখতে প্রতি বছর অগুণতি পুণ্যার্থী ভিড় জমান।

  • প্রায় ৩০০ বছর আগে অবিভক্ত বাংলার পাবনার স্থলবসন্তপুরে এই পুজোর সূচনা হয়। নদীয়া নিবাসী শ্রী হরিদেব ভট্টাচার্য নাটোরের রানি ভবানীর কাছ থেকে জমি পেয়ে জমিদারি পত্তন করেন। পূর্বে এই পরিবারে কালীপুজো হলেও, হরিদেব স্বপ্নাদেশ পান দুর্গাকে ভদ্রকালী রূপে কৃষ্ণবর্ণে প্রতিষ্ঠা করার। সেই অলৌকিক নির্দেশের উপর ভর করেই আজও অব্যাহত এই ধারা।

  • ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা গঠনে স্থানগত বেশ কিছু বৈচিত্র দেখা যায়। দেবীর ডান পাশে অবস্থান করেন দেবী লক্ষ্মী ও কার্তিক। অন্যদিকে বাম পাশে বিরাজ করেন দেবী সরস্বতী ও গণপতি। শক্তির এই বিশেষ সজ্জা পুজোটিকে অন্যান্য বনেদি বাড়ির পুজো থেকে আলাদা মাত্রা এনে দেয়।

  • দেশভাগের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই পুজোকে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। ১৯৩৫ সালে কর্মসূত্রে পরিবারের সদস্যরা আসানসোল ও কলকাতায় আসেন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আসানসোলে এবং সত্তরের দশকে দুর্গাপুরে পুজো অনুষ্ঠিত হয়। আশির দশক থেকে কলকাতার বেলেঘাটায় ধীরেন চারু স্মৃতি সংঘের কাছে এই পুজো স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পায়।

  • এই পরিবারে শাক্ত মতে ষষ্ঠী থেকেই দেবীকে প্রতিদিন আমিষ ভোগ নিবেদনের নিয়ম রয়েছে। ভোগের পাতে থাকে আড়, বোয়াল, কাতলা ও পাবদা মাছ। নবমীর বিশেষ আকর্ষণ থাকে সুস্বাদু ইলিশ মাছ। ষষ্ঠী থেকে দশমী— দেবী আরাধনার প্রতিটি দিনেই অন্ন ও মৎস্য ভোগের এই বিশেষ প্রথা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।

  • নিত্য মৎস্য ভোগের পাশাপাশি তিথি মেনে নিরামিষ প্রসাদের বিধানেও রয়েছে বৈচিত্র। সপ্তমীর দিনে দেবীকে খিচুড়ি ভোগ এবং মহাঅষ্টমীতে সুবাসিত পোলাও নিবেদন করা হয়। নবমীর পুণ্য তিথিতে পাঁঠাবলির পর ফ্রায়েড রাইসের সঙ্গে দুই ধরনের মাছের পদ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। দেবীর কৃপালাভে এই প্রসাদ বিতরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

  • বিজয়া দশমীতে দেবীর বিদায়বেলায় পরিবেশন করা হয় এক লোকায়ত ভোগ। এই দিনে মায়ের শেষ ভোগে থাকে পান্তা ভাত, ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে রাঁধা কচু শাক এবং টক দই। প্রথা মেনে দেবীকে এই চিরাচরিত বঙ্গীয় পদ নিবেদন করে আশ্রিতরা অশ্রুসজল চোখে উমাকে আগামী বছরের জন্য বিদায় জানান।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Durga Puja 2026KolkataKolkata Durga Puja
Advertisement
Tags :
Durga Puja 2026KolkataKolkata Durga Puja

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন