দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Bonedi Barir Durga Puja

জিউ-রাধারানির কানে তুলো দিয়ে শয়নের পর বলি, বাংলার এই বনেদি বাড়িতে পূজিত হন চতুর্ভুজা দুর্গা

হরিদ্বার, ওড়িশা হয়ে বাংলায় কীভাবে এই পুজোর সূচনা?
Sayani Sen
11:11 AM Sep 28, 2026 IST
হরিদ্বার, ওড়িশা হয়ে বাংলায় কীভাবে এই পুজোর সূচনা?
দশঘরার বিশ্বাস বাড়ির পুজো। নিজস্ব চিত্র

বাংলার বনেদি বাড়ির পুজোগুলিতে (Bonedi Barir Durga Puja) রয়েছে নানা ব্যতিক্রমী ছোঁয়া। পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে নানা অলৌকিক কাহিনি। বলিপ্রথা অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে হুগলির দশঘরার বিশ্বাস পরিবারের বলিপ্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ইতিহাস। এখানে জিউ ও রাধারানিকে কানে তুলো দিয়ে শয়নের পর হয় বলির আয়োজন।

দশঘরার দেববিশ্বাস পরিবার আগে হরিদ্বারে থাকত। সেখান থেকে তারা চলে আসে বাংলায়। জগমোহন বিশ্বাস দশটি বিরাট গ্রাম নিয়ে জমিদারির পত্তন করেন। যদিও এই তথ্য নিয়েও নানা মুনির নানা মত। কেউ কেউ বলেন, জগমোহন বিশ্বাসের প্রপিতামহ ছিলেন জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা। ইতিমধ্যেই নিধিরাম বিশ্বাস নামে পরিবারেরই এক সদস্যের মৃত্যু হয়। অল্পবয়সে মৃত্যু হয় তাঁর। শোকে দুঃখে প্রায় কাতর হয়ে পড়েন তাঁর মা। সেই সময় হরিদ্বার থেকে গোপীনাথ জিউ এবং রাধারানির দু'টি মূর্তি নিয়ে আসা হয়। মূর্তি দু'টিকে সন্তানস্নেহে আঁকড়ে ধরেন নিধিরামের মা। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে সদানন্দ বিশ্বাস মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর ধুমধাম করে গোপীনাথ জিউয়ের পুজো শুরু হয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

হুগলির দশঘরার বিশ্বাস বাড়ি। নিজস্ব চিত্র

তার আগে থেকেই এই বাড়িতে চণ্ডীপুজো হত। তবে পুরোহিত একসঙ্গে চণ্ডী আর গোপীনাথ জিউয়ের পুজো করতে তিনি রাজি হননি। তাই চণ্ডীমণ্ডপ স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দুর্গাদালান তৈরি করা হয়। শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই পুজো আজও চলছে। এখানকার পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রীতিতে কোনও ছেদ পড়েনি আজও। উল্টোরথের দিন হয় কাঠামো পুজো। মহালয়ার পরদিন বোধন। তারপর থেকে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। পঞ্চমীতে দেবীকে ৪০ ভরির গয়না পরানো হয়। অস্ত্রশস্ত্রও পরানো হয়। ষষ্ঠীতে হয় বিল্ববরণ। সপ্তমীতে কলাবউ স্নানের পর দেবীর চক্ষুদান। পুজোর শুরু হলে তিন বংশের তিনজন গৃহলক্ষ্মীকে দুর্গাদালানে নিয়ে এসে দেবীর পাশে রাখেন। দুর্গার মতো পূজিত হন গৃহলক্ষ্মীও। অষ্টমীতে ১০৮টি করে মোট ৩২৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

এই বাড়ির প্রতিমা বেশ ব্যতিক্রমী। দেবী এখানে দশভুজা নন। তিনি চতুর্ভুজা। ডান হাতে বল্লম, বাঁ হাতে সাপ। সঙ্গে থাকে ঢাল, তরোয়াল। একচালার মূর্তির ওপরে দুর্গার দু'পাশে থাকে কার্তিক, গণেশের মূর্তি। চালার নিচের দিকে লক্ষ্মী, সরস্বতী। গণেশ খানিক ওড়িশি ধাঁচে তৈরি করা হয়। বলির সঙ্গে জড়িয়ে নানা অলৌকিক কাহিনি। এই বাড়িতে তিনদিন পাঁঠা বলি হয়। নবমীতে আঁখ, ছাঁচিকুমড়ো, লেবু বলি দেওয়া হয়। শাক্তমতে পুজো শুরুর আগে গোপীনাথ জিউ এবং রাধারানিকে পুজো করা হয়। তারপর কানে তুলো দিয়ে শয়ন করিয়ে দেওয়া হয়। পুজোর সময় মন্দিরের দরজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুজোর শেষে হয় সন্ধ্যারতি। প্রায় ৩০-৪০ রকমের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। তাতে থাকে ফল, ক্ষীর, ছানা, দই, লুচি, বাতাসা, সন্দেশ। দশমীর সন্ধ্যায় বরণ এবং সিঁদুরখেলার পর গোপীসাগর দিঘিতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। তার আগে ঠাকুরের মুকু খুলে নেওয়া হয়। কিছুদিন পর ওই কাঠামো তুলে পরিষ্কার করে রাখা হয়। পরের বছর আবার ওই কাঠামোতেই মূর্তি তৈরি করা হয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengal
Advertisement
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengal

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন