পুজোয় আরও বুক স্টল বাড়াতে চায় সিপিএম, লক্ষ্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ
Sayani Sen
বড় পুজো হোক কিংবা পাড়ার ছোট্ট বারোয়ারি উৎসব-শারদোৎসবের (Durga Puja 2026) মরশুমে মার্কসীয় সাহিত্যের বইয়ের স্টল বা বুক স্টল করা বামপন্থী দলগুলির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচির অন্যতম অঙ্গ। ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই কর্মসূচিতে আরও জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম। পুজোর মাঠকে শুধু উৎসবের পরিসর হিসেবে নয়, মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার প্রথম দিকে বিভিন্ন পুজোয় বামেদের বইয়ের স্টলের সংখ্যা কমে গেলেও পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে তা ফের বাড়ানো হয়েছিল। এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বুক স্টল করার ক্ষেত্রে নতুন করে বাধা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বাম নেতৃত্বের। বিশেষ করে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পুজোর সময়েও সংগঠনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের বার্তা, কোনও ধরনের হুমকি বা চাপের কাছে মাথা নত করা যাবে না। বরং যেখানে সম্ভব সেখানে বুক স্টলের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পুজো কমিটি ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মার্কসবাদ, শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্টদের ভূমিকা এবং সমকালীন রাজনৈতিক-সামাজিক বিষয়ের বই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এবারের কর্মসূচিতে বিশেষভাবে ছাত্র ও যুবদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে আলিমুদ্দিন। শুধু বই বিক্রি নয়, বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে মানুষের সঙ্গে আলোচনা, নতুন প্রজন্মের কাছে বামপন্থী চিন্তাভাবনা তুলে ধরা এবং পুজোর ভিড়কে জনসংযোগের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাম নেতৃত্বের একাংশের মতে, রাজনৈতিকভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাংস্কৃতিক ও মেধার পরিসর ছেড়ে দিলে চলবে না। বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বিকল্প চিন্তা ও মতাদর্শের চর্চা বাড়ানো জরুরি। সেই লক্ষ্যেই শারদোৎসবের বুক স্টলকে এবার আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়েছেন সিপিএম রাজ্য কমিটির এক সদস্য।
ক্ষমতা হারানোর পর রাজ্যে বামেদের সামনে সংগঠন পুনর্গঠনের পাশাপাশি জনভিত্তি পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে পুজোর বুক স্টলকে ঘিরে ছাত্র-যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর এই নির্দেশকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে দলের ফেরার কৌশলেরই একটি অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।