দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Durga Puja 2026

অন্নপূর্ণার টাকায় উমা আরাধনা, চাঁদা না নিয়েই অসাধ্যসাধন বাংলার 'দুর্গা'দের

সরকারি ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা মিললে তা দিয়ে একটি স্থায়ী কংক্রিটের পুজোমণ্ডপ তৈরির স্বপ্ন দেখছেন মহিলারা।
Sayani Sen
06:03 PM Sep 17, 2026 IST
সরকারি ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা মিললে তা দিয়ে একটি স্থায়ী কংক্রিটের পুজোমণ্ডপ তৈরির স্বপ্ন দেখছেন মহিলারা।
ফতেপুর মহামায়া সংঘের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপ্রতিমা। ছবি: সুশান্ত পাল

যে টাকা দিয়ে সংসারের হাঁড়িতে অন্ন ওঠে, সেই টাকাতেই এবার ঘরে ঘরে আসবেন উমা। চাঁদার খাতা নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘোরার বদলে সরকারি প্রকল্পে পাওয়া অর্থ একত্র করেই দুর্গাপুজোর আয়োজন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে নিজেদের অংশ তুলে নিয়ে দুর্গোৎসবের আয়োজন করে নজির গড়তে চলেছেন বীরভূমের মল্লারপুরের ফতেপুর গ্রামের অন্তত ৫০ মহিলা। ফতেপুর মহামায়া সংঘের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজো এবার তৃতীয় বর্ষে পা দিল। প্রায় দেড় লক্ষ টাকার পুজোর বাজেট। সেই অর্থেই চলছে মণ্ডপ তৈরি থেকে প্রতিমা, পুজোর সামগ্রী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।

কাঠ আর বাঁশের কাঠামোয় গড়ে উঠছে পুজোর মণ্ডপ। মণ্ডপ তৈরির কাজ থেকে প্রতিমা আনা, পুজোর আয়োজন, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান - প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামনে থেকে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন গ্রামের মহিলারাই। অর্থাৎ শুধু পুজোর উদ্যোক্তা নন, পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন-মহিলারাই এখানে মূল কারিগর। পুজোর প্রথম বছরগুলিতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা না থাকায় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে পুজোর সূচনা হয়েছিল বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই নিজেদের উদ্যোগে পুজো চালিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এবার অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ হাতে আসায় সেই ছবিটাই বদলে গিয়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

উদ্যোক্তাদের কথায়, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তাঁদের কাছে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়। একসঙ্গে কিছু করার সাহসও জুগিয়েছে। সেই কারণেই নিজেদের প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ একত্র করে মায়ের আরাধনায় শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না। ফতেপুর মহামায়া সংঘের কোনও স্থায়ী পুজোমণ্ডপ বা মন্দির নেই। প্রতি বছর অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করেই দুর্গাপুজো করতে হয়। তাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো সরকারি ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা মিললে তা দিয়ে একটি স্থায়ী কংক্রিটের পুজোমণ্ডপ তৈরির স্বপ্ন দেখছেন মহিলারা। পুজো কমিটির সদস্যদের দাবি, রাজ্য সরকারের তরফে পুজো মণ্ডপ ও ক্লাবগুলিকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা হয়েছে। সেই সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদন করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা। সরকারি সাহায্য মিললে অস্থায়ী কাঠ-বাঁশের বদলে স্থায়ী মণ্ডপ নির্মাণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফতেপুর মহামায়া সংঘের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপ্রতিমা। ছবি: সুশান্ত পাল

এবার তাই ফতেপুরে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে শুধু দেবীদুর্গার প্রতিমাই থাকছে না। থাকছে স্বনির্ভরতার গল্প, মহিলাদের ঐক্যের গল্প এবং অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থকে ঘিরে এক অভিনব উদ্যোগের বার্তা। অন্নপূর্ণার দেওয়া অর্থেই উমা আরাধনা ফতেপুরের দুর্গাপুজোয় এবার সেই ছবিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় চমক।

পুজো কমিটির সহ-সভাপতি শিপ্রা মণ্ডল জানান, “আমাদের পাড়াতে কোন দুর্গাপূজা হতো না। পাড়ার ছোট থেকে বড় সকলকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এই পুজোর মূল উদ্যোগ। ঠাকুর দর্শন থেকে শুরু করে অঞ্জলি পুজোপাঠ সবকিছুই দিতে অনেকটা দূরে যেতে হল। সেই সব অসুবিধার কথা মাথায় নিয়েই আমরা কিছু মহিলা মিলে এই পুজো করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সেই মতোই এবার মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জমানো টাকা দিয়েই আমরা সেই বাজেট বাড়িয়ে এবারের এই পূজোর আয়োজন করেছি। মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য ক্লাবগুলির মতো যদি আমাদেরকেও আর্থিক সাহায্য দেন তাহলে আমরা অনেকটা উপকৃত হব।”

ক্লাবের সদস্যা লীলা মণ্ডল জানান, “আগের সরকারের দেড় হাজার টাকা দিয়ে আমরা পুজোর তেমন বড় করে উদ্যোগ নিতে পারিনি। কিন্তু এই সরকার তিন হাজার টাকা করে দেওয়ায় বুকে সাহস নিয়ে অনেক বেশি বাজেটে আমরা এই পুজো করছি। প্রথমেই ভাগবত ও গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে আমাদের পুজোর অনুষ্ঠান শুরু হয়।”

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengalwest bengal durga puja
Advertisement
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengalwest bengal durga puja

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন