'নন্দী'র পিঠে অসুরবিহীন হরগৌরী! উলুবেড়িয়ার জমিদারবাড়ির পুজোর অজানা ইতিহাস
Arpita Mondal
বছর পেরিয়ে আবার উমার বাপের ঘরে আসার সময় এসেছে। তবে তিনি একা নন, সঙ্গে করে নিয়ে আসেন আপনভোলা ভোলানাথকেও। বাহন 'নন্দী'র পিঠে চেপে উলুবেড়িয়ার জমিদার বাড়িতে জোড়ায় আসেন হরগৌরী। সঙ্গে থাকেন কার্তিক-গণেশ-লক্ষ্মী-সরস্বতীও।
পাঁচলার জুজারসা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলডাঙা ঘোষ পরিবারে হরগৌরী পুজোয় প্রতিমা দুর্গা থাকেন ষাঁড়ের উপর শিবের সঙ্গে। উমা এখানে সিংহবাহিনী নন। থাকেন না মহিষাসুরও। কেন এইরূপে দেবী আরাধনা হয় এখানে? পরিবারের অন্যতম সদস্য অনুপ ঘোষ বলেন, "ঘোষ বাড়িতে দেবী দুর্গা মূলত কন্যা রূপে পূজিত হন। কন্যা হিসেবে তিনি সপরিবারে জামাইয়ের সঙ্গে বাপের বাড়িতে আসেন। শিবের বাহন ষাঁড়। তাই দেবী দুর্গা স্বামী শিবের সঙ্গে ষাঁড়ের পিঠে চড়েই এখানে আসেন।"
আরও পড়ুন:
কন্যারূপে পুজো নেপথ্যে রয়েছে সাড়ে তিনশো বছরের অতীত-কাহিনি। কথিত রয়েছে, পরিবারের কর্তা জমিদারমশাই দুয়ারে বসে পাটের দড়ি তৈরি করছিলেন। সেই সময় এক শাঁখারি কর্তামশাইকে এসে বলেন আপনার মেয়ে শাঁখের চুড়ি নিয়েছে আপনি পয়সা দিন। কর্তামশাই জিজ্ঞাসা করেন কোথায় আমার মেয়ে। শাঁখারি বলেন, উনি পুকুর পাড়ে ছিলেন। শাঁখা পরে পুকুরে নেমে গেছেন। বাবা ঠিক শাঁখার টাকা দিয়ে দেবেন। এরপর কর্তামশাই মেয়েকে দেখতে পুকুর ঘাটে আসেন। কিন্তু কাউকে দেখতে পারেননি। জলের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেছিলেন, মা কোথায় আছিস? কই কেমন চুড়ি পরেছিস দেখি। এরপর পুকুরের জল থেকে শাঁখা পরা দুটি হাত দেখতে পান জমিদার। তা দেখেই কর্তামশাই খানিকটা আন্দাজ করেছিলেন। ঠিক ওই রাতেই স্বপ্নাদেশে দেবী তাঁকে পুজোর আদেশ দেন। সেই থেকেই দেবী দুর্গার প্রতিষ্ঠা হয় জমিদারবাড়িতে। সেই থেকেই দেবীকে কন্যা রূপে পুজো করে আসছে কুলডাঙার ঘোষ পরিবার। অনুপবাবু আরো বলেন,"সমস্ত রীতিনীতি মেনেই এখানে পুজো হয় প্রতিবার। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকে বাড়িতে পুজো শুরু হয়। ১০ দিন ধরে পুজো চলে। জন্মাষ্টমী থেকে প্রতিমার গায়ে মাটি দেওয়া শুরু হয়। দশমীর দিন নরনারায়ণ সেবার পর হরগৌরী ফিরে যান কৈলাসে।