ভোগে পান্তাভাত আর সুস্বাদু মাছ, মনোস্কামনা পূরণে 'অব্যর্থ' বাংলার প্রাচীন দেবী
Sayani Sen
বাংলার বনেদি বাড়ির পুজোগুলির সঙ্গে জড়িয়ে নানা কাহিনি। ভোগেও রয়েছে বৈপরীত্যের ছোঁয়া। বালুরঘাটের গৌরী পাল বাড়ির দুর্গাপুজোর বিশেষত্ব ভোগ। এখানে দেবী মাছে-ভাতে। পান্তাভাত, বোয়াল ও আত্রেয়ী নদীর রাইখোর মাছের ভোগই নিবেদন করা হয় দেবীকে। নবমী ও দশমীতে দেবীকে এই ভোগ উৎসর্গ করা হয়। সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন এই দেবী নাকি মনোস্কামনা পূরণেও অব্যর্থ।
দক্ষিণ দিনাজপুরের পারিবারিক প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বালুরঘাট কংগ্রেস পাড়ার পাল বাড়ির পুজোটি। পাল বাড়ির নিজস্ব প্রাচীন এই পুজাটি এখন স্থানীয় অর্থাৎ বারোয়ারী হিসেবেই হয়ে থাকে। বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী নদীর পাশে নিজের বাড়িতেই এই পুজো শুরু করেছিলেন গৌরী পাল। সেসময়কার মতো আজও একইভাবে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে আসছে এখানে। ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে চলা পালবাড়ির পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে এবারও। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় বালুরঘাটে বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গৌরী পাল পরিচিত ছিলেন। তিনিই প্রথম এই দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। খড় ও বাঁশের তৈরি মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবীর পুজো শুরু হয়েছিল প্রথমে। গৌরী পালের অবর্তমানে তাঁর উত্তরসূরিদের হাত থেকে প্রায় ৮৫ বছর আগে পাল বাড়ির দুর্গাপুজোর পরিচালনার দায়িত্ব নেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। পরবর্তীতে পাকা মন্দির নির্মাণ করে পুজো চলছে।
আরও পড়ুন:
বারোয়ারী উদ্যোগে এই পুজো আয়োজিত হলেও, নাম রয়ে গিয়েছে পাল বাড়ির দুর্গাপুজো হিসেবেই। নবমী ও দশমীতে দেবীকে পান্তাভাত, বোয়াল ও বালুরঘাটের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রেয়ী নদীর বিশেষ মাছ রাইখোরের ভোগ দেওয়া হয়। সেই ভোগ পান্তা আকারে মাকে নিবেদন করা হয়। সেটি আবার প্রসাদ হিসেবে চলে বিতরণ। প্রতি বছর এই ভোগ গ্রহণের জন্য স্থানীয়-সহ আশপাশের হাজারও ভক্ত সমাগম হয় গৌরী পালবাড়ির পুজো প্রাঙ্গণে। গৌরী পালবাড়ির বংশধর ইন্দ্রজিৎ পাল বলেন, "বারোয়ারী হলেও আমাদের পূর্বপুরুষদের রীতি আজও পালন হয় এই পুজোয়। নবমীর ভোগ আমাদের পুজোর বিশেষ আকর্ষণ। আমরা সকলকেই এই প্রসাদ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখি। এখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর কাছে কেউ কিছু মানত করলে তা পূরণ হয়।" সারাবছর মায়ের থানে পুজো ও মানত করতে আসেন বালুরঘাট-সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষজন।