বাংলার এই বাড়িতে কুমারীরা পরেন শাঁখা, ভোগে পুরীর জিভেগজা, উমা তুষ্ট ওড়নাতেই
Sayani Sen
স্বামীর মঙ্গল কামনায় বিবাহিত মহিলারা সাধারণত শাঁখা পরেন। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে। ঠিক যেমন হাওড়ার আন্দুলের দত্তচৌধুরী পরিবারে দেবীপক্ষ পড়লেই কুমারীও পরেন শাঁখা। পলা কিংবা লোহা অবশ্য পরেন না তাঁরা। কারণ, এখানে দুর্গাকে মেয়ে হিসাবে পুজো করা হয়। সে কারণেই অবিবাহিতদের শাঁখা পরতে হয়।
একাদশ শতকে সেন বংশের শাসনকালে কনৌজ থেকে বাংলায় আসে পাঁচ ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয় বংশ। পাঁচ ক্ষত্রিয় বংশের মধ্যে ছিল দত্তচৌধুরীরা। তাঁদের বংশধররা হাওড়ার বালি থেকে আন্দুলে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। বাংলায় সুলতানি শাসনের সময় এই পরিবারের উত্তরপুরুষ দেবদাস দত্তকে জমিদার ঘোষণা করেন। তাঁরা চৌধুরী উপাধি দেওয়া হয়। তারপরই পরিবারের তরফে দুর্গাপুজো শুরু করেন রামশরণ দত্তচৌধুরী। দেবী এখানে উমারূপে পূজিত হন। ষষ্ঠীতে দেবীকে সবুজ এবং দশমীতে লাল রঙের ওড়না পরানো হয়।
আরও পড়ুন:
প্রথমদিকে এই পুজোয় বলিপ্রথা চালু ছিল। তবে পরে পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পান। পশুবলি বন্ধ হয়ে যায়। নবমীর সকালে প্রতিমার সামনে কালি প্রদীপের আরতি করেন পুরোহিত। মোট ২৮টি প্রদীপ দিয়ে আরতির পর তা উলটে রেখে নিভিয়ে দেওয়া হয়। ওইদিনই কুমারী পুজো এবং ধুনো পুজোও হয়। বাড়ির বধূরা মাথায় জ্বলন্ত ধুনি নিয়ে বসেন পরিবারের মঙ্গল কামনায়। ভোগেও রয়েছে ব্যতিক্রমী ছোঁয়া। দত্তচৌধুরী বাড়ির ভোগে আজও দেওয়া হয় পুরীর জিভেগজা। নারকেল নাড়ু, চন্দ্রপুলি, ক্ষীরের ছাঁদ, মনোহরা-সহ নানা মিষ্টি ভোগ দেওয়া হয়। মিষ্টি দিয়ে সাজানো চূড়ার মাথায় থাকে পেস্তা, বাদাম ও কিশমিশ। এছাড়া দেবীকে খিচুড়ি ও পোলাও দেওয়ার চলও রয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোরই প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।