দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Durga Puja

কার্তিকের পাশে কলাবউ! দুর্গার আগে মা মনসার বিসর্জন, ভিন্ন নিয়মে বাঁধা কুলডিহার এই পুজো

প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা ১১১১ বঙ্গাব্দে। সেই সময় জমিদার জনকিনাথ চট্টোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন।
Arpita Mondal
07:58 PM Sep 25, 2026 IST
প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা ১১১১ বঙ্গাব্দে। সেই সময় জমিদার জনকিনাথ চট্টোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন।
কুলডিহা জমিদার বাড়ির দুর্গা প্রতিমা। নিজস্ব ছবি।

নবপত্রিকা গণেশের পাশে নয়, থাকে কার্তিকের কাছে। আবার দুর্গার বিসর্জনের আগেই হয়ে যায় মা মনসার বিসর্জন। জমিদারি নেই, কিন্তু জমিদার আমলের সেই ঐতিহ্য আজও অটুট। পুজোর চারদিন যেন হারিয়ে যাওয়া একান্নবর্তী পরিবারকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে। সারা বছর যে যেখানেই থাকুন না কেন, দুর্গাপুজোর চারদিন সবাই এক ছাদের তলায়। দুবেলা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর পুজোর ব্যস্ততায় কুলডিহা চ্যাটার্জী বাড়ি যেন ফের এক হয়ে ওঠে।

প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা ১১১১ বঙ্গাব্দে। সেই সময় জমিদার জনকিনাথ চট্টোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় এখানে বলির প্রচলন নেই। প্রাচীন রীতি মেনেই আজও পুজো হয়ে আসছে। জমিদারি চলে গিয়েছে বহু আগেই, কিন্তু পুজোর জৌলুসে তার ছাপ আজও স্পষ্ট। কুলডিহার দুর্গামন্দিরের দুই পাশে রয়েছে দুই শিবমন্দির। রয়েছে মা মনসার মন্দির এবং একদিকে রয়েছে রঘুনাথের মন্দির। মুচিপাড়া-শিবপুর রাস্তার ধারে রয়েছে কুলডিহার তালপুকুর, লক্ষ্মীসায়ের। এই পুকুরের জলেই নবপত্রিকার স্নান হয়। তারপর দোলায় করে নবপত্রিকা নিয়ে আসা হয় চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নবপত্রিকা স্নানের পর দোলায় চেপে যান চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে। নিজস্ব ছবি।

এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব নবপত্রিকা গণেশের পাশে নয়, থাকে কার্তিকের কাছে। শুধু পুজোর রীতিতেই নয়, ভোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য। বাড়ির পুরুষ সদস্যরাই ভোগ রান্না করেন। সপ্তমীর দিন সাত সের চালের ভাত, সাত রকম ভাজা, তরকারি, ডাল, চাটনি, লুচি ও পায়েস নিবেদন করা হয়। বর্তমানে পরিবারের সদস্য কিরণ কান্তি চট্টোপাধ্যায়, আকাশ চট্টোপাধ্যায় এবং কুশল চট্টোপাধ্যায় পরিচালনা করেন। বাকি দিনগুলিতে তিন রকম পদের সঙ্গে অন্ন নিবেদন করার রীতি রয়েছে। দশমীতে এই পুজোর ঐতিহ্য আরও অন্যরকম হয়ে ওঠে। দুর্গার দোলা বিজয়ের আগেই হয় মা মনসার বিসর্জন। সন্ধ্যায় পাশের হাজরাপাড়ার মানুষজন জমিদারি আমল থেকে চলে আসা লাঠিখেলার প্রদর্শনী করেন। সেই ঐতিহ্য মেনেই কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় পাশের জানকিবাঁধে। সেখানেই হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। বদলেছে অনেক কিছুই। কিন্তু কুলডিহা চট্টোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও থেকে গিয়েছে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্য।

পুজোর ৫ দিন বাড়ির পুরুষ সদস্যদের রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে।
Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengalwest bengal durga puja
Advertisement
Tags :
Banglar Durga PujaDurga Puja 2026Durga Puja in West Bengalwest bengal durga puja

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন